দিনাজপুরে উৎপাদিত কাঠারীভোগ চালের বিশ্ব স্বীকৃতি

1

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে।। ২৮ জুন।। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে দিনাজপুর জেলায় উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি কাঠারীভোগ চাল স্বীকৃতি পেয়েছে। কাঠারীভোগ চাল এখন ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারাবিশ্বে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হিসেবে সনদ পেয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তার কার্যালয়ে দিনাজপুরের সুগন্ধি কাঠারীভোগ চাল বিশ্বদরবারে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে তিনি এই জেলাবাসীকে গর্বিত বলে প্রশংসিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ১৭ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেড মাকর্স অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) কাঠারীভোগ চালের জন্য বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সষ্টিটিউটকে জিআই সনদ হস্তান্তর করেন। দেশে এখন চালের সংকট কেটে গেছে, আর এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি সুগন্ধি চালের উৎপাদন হয়েছে। সেহেতু রপ্তানি ক্ষেত্রে আগাম অনুমোদন ব্যবস্থা তুলে নিলে এই খাত থেকে আয় বাড়বে। এই বিষয়ে ডিপিডিটি’র রেজিষ্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর সাত্তার বলেন, এখন থেকে অন্য দেশ কাঠারীভোগকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারবে না। এসব জাত কোন দেশে চাষাবাদ বা সম্প্রসারণের জন্য রয়্যালিটি দিতে হবে। পাশাপাশি এ স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের চাহিদা ও রপ্তানি বাড়বে। বিদেশে এ পণ্যের দাম বাড়বে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

এদিকে দেশে প্রতিবছর বাড়ছে কাঠারীভোগসহ অন্যান্য সুগন্ধি চালের চাহিদা। বিভিন্ন জেলায় অঞ্চল ভিত্তিক প্রচুর সুগন্ধি চালের জাত আছে। জাতগুলোর মধ্যে অধিকাংশই অতি সুগন্ধি। এই জাতগুলোর মধ্যে চিনিগুড়া, কালিজিরা, কাঠারীভোগ অন্যতম। প্রধানত আমন মৌসুমে (খরিদ-২) সুগন্ধি ধানের চাষ করা হয়। এই মৌসুমে উৎপাদিত ধানের প্রায় ১০ শতাংশ সুগন্ধি জাতের চাল। কাঠারীভোগ জাতের ধানের জেলা হিসাবে সুনাম দীর্ঘদিনের। প্রাকৃতিক কারণে এই অঞ্চলে কাঠারীভোগের ফলন ও গন্ধ বেশি হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুরে সুগন্ধি ধানের আবাদ ৭ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঠারীভোগের চাষ। শুধু কাঠারীভোগের চাষাবাদ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর (ডি এ ই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছর থেকে দিনাজপুরে সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়তে শুরু করেছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে জেলায় ৪১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত হয় ৮৬ হাজার ৯৯৪ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল। এরপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর সুগন্ধি ধানের আবাদের আওতায় জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বেড়েই চলছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৯০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৪ মেট্রিক টন চাল।

সূত্র জানায়, বিদেশে বেড়েছে সুগন্ধি চালের চাহিদা। প্রধানত  যে সব দেশে এশিয়ার লোকজন বেশি বাস করে সেখানে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও সুগন্ধি চালের চাহিদা বেড়েছে। ফাস্ট ফুড ও বিভিন্ন চাইনিজ খাবারের জন্য সুগন্ধি চাল এখন খুবই জনপ্রিয়। রপ্তানিকারকরা বলেছেন, দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।