দিনাজপুরে আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও নিদর্শন সংরক্ষণে কাজ চলছে

2

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে।। ১৬ জানুয়ারি।।  দিনাজপুর জেলার কাহারোল, বীরগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি, পার্বতীপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে সাঁওতালদের বসবাস শত শত বছর ধরে সাঁওতাল আদিবাসীরাই এই জেলার ভূমির আদি বাসিন্দা  সাঁওতাল বা সামন্তভূমিতে বাস করার কারণে সাঁওতাল নামে তারা পরিচিত ইতিহাসে সাঁওতালদের তীরধনুকে ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ আজও জ্বলজ্বল করছে গৌরবে 

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমীন এসব তথ্য জানান তিনি বলেন, তার অনুসন্ধানে সাঁওতাল আদিবাসীদের বসবাস এবং তাদের জীবন নিয়ে নানা তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে সে অনুযায়ী সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত সাঁওতালদের সংস্কৃতিচর্চায় লিখিত বইপত্র নেই, তবে লোকগীতি লোককাহিনীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে তাদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লিখিত বর্ণমালা নেই, তেমনই ধর্ম আছে কিন্তু কোন ধর্মগ্রন্থ নেই বর্তমান খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে

তিনি বলেন, সাঁওতালরা ভূখন্ডের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষি সংস্কৃতির জনক ধারক হিসেবে স্বীকৃত আর্থসামাজিক কারণে দারিদ্র্য সাঁওতালদের নিত্যসঙ্গী তাই বাধ্য হয়ে অতি অল্প বিনিময় মূল্যে বর্তমানে সম্প্রদায়ের মানুষজন কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকে 

ঘোড়াঘাট উপজেলার আদিবাসী নেতা গণেশ কিসকু জানান, সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে কিস্কু, হাঁসদা, মুর্মু, হেমব্রম, মার্ডি, সরেন, টুডু, বাস্কে, বেশরা, চঁড়ে, পাঁউরিয়া বেদেয়া সাধারণ নিয়মে একই গোত্রের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ এসব অনুশাসন এখন অবশ্য ততটা সচল নয়

জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্যের মধ্যে রয়েছে,ভাত, মাছ, কাঁকড়া, শুকর, মোরগ, বন জঙ্গলের পশু, পাখি, খরগোশ, গুইসাপ, ইঁদুর বেঁজির মাংস  তবে যুগের তালে পরিবর্তিত হচ্ছে এই খাদ্যাভ্যাস 

সাঁওতাল পুরুষরা আগে সাদা থান কাপড়ের ধুতি পরতেন বর্তমানে তারা লুঙ্গি, ধুতি, গেঞ্জি, গামছা ব্যবহার করেন নারীরা ফতা নামের দুই খন্ডের কাপড় পরে থাকেন বর্তমানে এতেও বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে এবং ব্যবহার করতে দেখা যায় প্রচলিত পোশাক

জাতিও বাঙালিদের মতো খুবই উৎসব প্রিয় নববর্ষের মাস ফাল্গুনে যেমন অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব, তেমনি চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি, বৈশাখে হোম, আশ্বিনে দিবি, পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব উদযাপিত হয়

আগের দিনে মৃতদেহ দাহ করার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে দিনাজপুর সহ বাংলাদেশের সকল এলাকায় সাঁওতালরা মরদেহ কবর দেয়

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহম্মেদ জানান, তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই জেলায় সাড়ে ২৭ লক্ষ মানুষের বসবাস এদের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন প্রকৃতপক্ষে সংখ্যা অবশ্য আরো কিছু বেশি হতে পারে৷ তাঁদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন সমৃদ্ধ গৌরবান্বিত করেছে দিনাজপুর জেলার সংস্কৃতি অঙ্গনকে তাদের জীবন যাত্রার মান বৈচিত্র্য ধরে রাখতে সরকারি নির্দেশে জেলা প্রশাসক কাজ শুরু করেছেন তাদের ঐতিহ্য নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে