ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের ওপর হামলা

18

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার সংগ্রামের পাদপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের ওপর হামলা হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে থাকা ‘মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্য’র একটি কান ভেঙে দেয়া হয়েছে। দেশে চলমান ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটল। অবশ্য গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশটি পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

মধুর ক্যানটিনের একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, মধুদার ভাস্কর্যের অংশবিশেষ ভাঙার বিষয়টি নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীকে জানানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য এসে ভাস্কর্যের ভাঙা অংশটি পুনঃস্থাপন করেন।

মধুসূদন দে, যিনি ‘মধুদা’ নামেই বহুল পরিচিত, ছিলেন মধুর ক্যানটিনের প্রতিষ্ঠাতা। মধুদা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে হত্যা করে। মধুদার স্মৃতি স্মরণে তাঁর নামেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থিত রেস্তোরাঁটির নামকরণ করা হয় ‘মধুর ক্যানটিন’। ক্যানটিনের সামনে স্থাপিত হয় শহীদ মধুসূদন দে’র ভাস্কর্য। ক্যানটিনটি বাংলাদেশের দীর্ঘ মুক্তির সংগ্রামের সাক্ষী। শহীদ মধুসূদন দে’র ছেলেমেয়েরাই বর্তমানে এই ক্যানটিন পরিচালনা করেন।

মধুদার ভাস্কর্যে আঘাত ও কান প্রতিস্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এমন একটি তথ্য আমার কাছে এসেছে। মধুর ক্যানটিনের সামনে উপস্থিত লোকজনই ভাস্কর্যটির কান প্রাথমিকভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন। প্রক্টরিয়াল টিম এসে ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশটি লাগিয়ে দিয়ে যায়। কারা, কী উদ্দেশ্যে হামলা করেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্যটি মধুর ক্যানটিনের সামনে থাকা গোলঘরের জানালার ঠিক পাশেই অবস্থিত। তবে শুরুতে ভাস্কর্যটি ক্যানটিনের একটি দরজার সামনে স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমদ ভাস্কর্যটি প্রথম উদ্বোধন  করেন। বর্তমান অবস্থানে ভাস্কর্যটির পুনর্নিমাণের পর ২০০১ সালে এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী। ভাস্কর্যটির ভাস্কর তৌফিক হোসেন খান।