ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে এই বিভাগের সাত জেলায় বিধিনিয়েধ

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রথম সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় সীমান্তবর্তী সাত জেলায়। সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারণে বেড়েছে পুরো রাজশাহী বিভাগের সংক্রমণ। সেখান থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন জেলার সংক্রমণের হার। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, করোনার ঊর্ধ্বমুখী আচরণ দক্ষিণবঙ্গেও দেখা গেছে। সবশেষে এখন ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলায় বেড়েছে সংক্রমণ। তাই ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে এই বিভাগের সাত জেলায় ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে এই লকডাউন ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নতুন করে সাত জেলায় সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) মঙ্গলবার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সোমবার (২১ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।

এ সময় শুধু আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাসংক্রান্ত কিছু বিষয় এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। আদেশে বলা হয়, এই সময়ে শুধু আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রভৃতি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (নদীবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী  ট্রাক বা লরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনের। রোগী শনাক্তের এই সংখ্যা গত ৬৮ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর চেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ১৪ এপ্রিল, ৫ হাজার ১৮৫ জনের। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৬৪১ জনের। ওই সময় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৮২ জনের। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।