ডাকাতি করতে এসে সুবলকে খুন করেছে পূর্ব পরিচিতই

3

ডেস্ক রিপোর্ট ।। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের বাসায় সুবল চন্দ্র পালের (৪৪) লাশটি ছিল শোয়ানো। তার গলার ডান দিকে ছুরির আঘাত, হাত-পা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা। খবর পেয়ে গত রোববার সকালে পুলিশ সুবলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সুবলকে যে খুন করেছে, সে তার পূর্বপরিচিত। উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোও মাঠে নামে।

দুদিন পর মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকেই সন্দেহভাজন দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হচ্ছে মোহাম্মদ মাসুদ রানা ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সুবল যে বাসায় দারোয়ানের কাজ করতো, ওই বাসাতেই গাড়িচালক ছিল মাসুদ। তখন সে প্রায়ই সুবলের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করতো। মাঝে মাঝে নারীদেরও নিয়ে আসতো। মাস দেড়েক আগে মাসুদ চাকরি ছেড়ে সিরাজগঞ্জে চলে যায়। সেখানে একটি লুঙ্গি কারখানায় মাইক্রোবাস চালকের কাজ নেয়।

কেন খুন হলো সুবল ? এ সম্পর্কে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার বলেন, প্রথমে তাদের পরিকল্পনা ছিল, দারোয়ানের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে রাখবে। বাড়ির মালিক ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ওই সময় তারা বাসায় ঢুকে ডাকাতি করবে। এখানে আসার আগে মাসুদ সুবলকে ফোন দিয়ে বলেছিল, এক চাচাতো ভাইকে নিয়ে একটা রাত থাকতে চায় ওখানে। সে অনুযায়ী, ১০ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ ও মিজানুর সুবলের কক্ষে এসে ওঠে। সেখানে ইয়াবাও সেবন করে। পরিকল্পনামতো রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ঘুমন্ত সুবলের হাত-পা বাঁধার চেষ্টা করলে সুবল জেগে ওঠে। তখন রুমে থাকা একটি ধারালো কাঁচি সুবলের গলায় ধরে তারা তাকে চুপ করে থাকতে বলে। মিজান একপর্যায়ে সুবলের গলা নাইলনের রশি দিয়ে পেঁচানোর চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুদ সুবলের গলায় ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তারা সুবলের গলা চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সুবলের মৃত্যুর পর তারা শক্ত করে তার হাত পা বাঁধে। পরে পানি দিয়ে নিজেদের শরীরে ও জামাকাপড়ে থাকা রক্তের দাগ ধুয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। খুনের পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আবারও সিরাজগঞ্জে চলে যায়।

পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবলের পরনে থাকা জামার পুড়িয়ে দেওয়া অংশবিশেষ ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করে। তা ছাড়া গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তিমতে ঘটনাস্থল থেকে এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার হয়েছে।