জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লো

8

ডেস্ক রিপোর্ট।।  মহামারীকালে ‘জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর’ বাজেটে প্রথমবারের মত সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে পেশ করা ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে আগামি অর্থবছরেও প্রান্তিক পর্যায়ের অসহায় মানুষের সহায়তায় বাড়তি নজর দেওয়ার অংশ হিসেবে এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন বাজেট পেশ করেন। তিনি করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রস্তাবিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বরাদ্দের তুলনায় ১১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা বেশি।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, করোনাভাইরাসজনিত কারণে কর্মহীনতা ও আয়ের সুযোগ হ্রাসের কবল থেকে দেশের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে আমাদের সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নগদ সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ৮৮০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। লকডাউনের সময় ৩৫ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া কারও ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা নেই। সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণেও বাজেটে বরাদ্দ রাখার কথা বলেছেন তিনি। বর্তমানে সারাদেশে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪০৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় মোট ১৫০ উপজেলার সব বয়স্ক এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে আগামি অর্থবছরে ভাতার আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামি অর্থবছরেও তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী সহায়তা পাবেন।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, পেনশন, সঞ্চয়কারীদের সুদ ভুর্তকি, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগীদের সহায়তা, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম।

কোনো প্রতিষ্ঠান তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী নিয়োগ দিলে কর ছাড় পাবে, এবারের বাজেটে তেমন প্রস্তাবই করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবে বলেছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তার মোট কর্মচারীর ১০ শতাংশ বা ১০০ জনের অধিক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়, তবে ওই কর্মচারীদের পরিশোধিত বেতনের ৭৫ শতাংশ বা প্রদেয় করের ৫ শতাংশ, যেটি কম, তা নিয়োগকারীকে কর রেয়াত হিসেবে প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করছি।

দেশে ভারী শিল্পের বিকাশে প্রস্তাবিত বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন বাজেটে। এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দেশে মেগা শিল্পের বিকাশ এবং আমদানি বিকল্প শিল্পোৎপাদনকে ত্বরান্বিত করার স্বার্থে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে অটোমোবাইল-থ্রি হুইলার এবং ফোর হুইলার উৎপাদনকারী কোম্পানিকে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি এবং আরও কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরও ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করছি।