চীনকে ঠেকিয়ে নয়াদিল্লির বন্ধুত্বকে সম্মান! ভারতের পাশে দাঁড়াল দ্বীপরাষ্ট্র

3

ডেস্ক রিপোর্ট।। চীনের কোনও ‘গবেষক’ জাহাজকে নিজেদের বন্দরে ভিড়তে দেবে না। চৌহদ্দিতে আর ঘেঁষতে দেবে না। ভারতকে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা থাকছে। কিন্তু কেন?

কলকাতার আনন্দবাজার-এর খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কলম্বো জানিয়েছে, তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোান (ইইজেড)-ও ব্যবহার করতে পারবে না চীনের ‘গবেষক’ জাহাজ।

২০২৩ সালের ২১ জুলাই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিঙ্ঘের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছিলেন, ভারতের কৌশলগত এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা যেন বিবেচনা করে প্রতিবেশী দেশ।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল। সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতকে এ কথা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে গবেষণার কাজ চালানোর কথা ছিল চীনের ‘জিয়াং ইয়াং হং ৩’ জাহাজটির। গভীর সমুদ্রে নেমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর কথা ছিল সেটির।

এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেই কাজ আর করতে পারবে না চীনের জাহাজ। শ্রীলঙ্কার সরকার সে অনুমতি দেবে না চীনকে। চীন এই নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি। তারা বরাবর দাবি করেছে, তাদের জাহাজ ‘গবেষণা’ চালিয়ে যাবে।

মালদ্বীপে এখন ক্ষমতায় মহম্মদ মুইজু। তাঁর সঙ্গে আবার চীনের সুসম্পর্ক সুবিদিত। নতুন মুইজু সরকারের কাছেও চীন মালে উপকূলের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে গবেষণা চালানোর অনুমতি চেয়েছে।

এর আগে ভারত মহাসাগরে চীনের গবেষণাকারী জাহাজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাকারকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারত এবং আমেরিকা।

এর আগে চীনের গবেষণাকারী জাহাজ ‘শি ইয়ান ৬’-এর টহল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। শ্রীলঙ্কার নৌসেনার জাহাজের সঙ্গে তা ভারত মহাসাগরে ভেসে বেড়াচ্ছিল। গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এই নিয়ে আপত্তি জানায় ভারত।

সেই আপত্তিতেও কান দেয়নি শ্রীলঙ্কা। চীনের সেই জাহাজকে নিজেদের বন্দরে নোঙর করতেও দিয়েছিল। তার আগেই ১৭-১৮ অক্টোবর বেজিং সফরে গিয়েছিলেন বিক্রমাসিঙ্ঘে। আর ২৫ অক্টোবর চীনের জাহাজ ‘শি ইয়ান ৬’ পৌঁছয় কলম্বোয়।