চলে গেলেন উস্তাদ রাশিদ খান, সঙ্গীত জগতে নক্ষত্রপতন

4

ডেস্ক রিপোর্ট।। ক্যানসারের মতো মারণ রোগের সঙ্গে লড়ছিলেন। তার মধ্যেই আবার সেরিব্রাল স্ট্রোক। আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে প্রয়াত উস্তাদ রাশিদ খান। দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে বেলা ৩.৪৫ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁতে জন্ম রাশিদ খানের। কিন্তু ছোটবেলাতেই কলকাতায় চলে এসেছিলেন। তার পর থেকে এই বাংলাকেই নিজের কর্মভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর তালিম শুরু হয়েছিল। মাত্র ১০- ১১ বছর দিল্লির কনসার্টে গান গেয়েছিলেন রাশিদ খান। প্রায় পাঁচ-ছহাজার দর্শকের মাঝে গাইতে একটু ভয়ই পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বয়সেই তাঁর বন্দিশ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

রামপুর-সহসওয়ান গায়কির শিল্পী ছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান। এই ঘরানারই শিল্পী উস্তাদ নিসার হুসেনের কাছে তালিম নেন। পন্ডিত ভীমসেন জোশীর খুবই কাছের মানুষ ছিলেন রাশিদ। তাঁকে দেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ বলেছিলেন পন্ডিতজি। নিয়মিত তাঁদের মধ্যে সঙ্গীত নিয়ে চর্চা হতো।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত হলেও বলিউড ও টলিউডের একাধিক সিনেমায় গান গেয়েছেন উস্তাদ রাশিদ খান। ‘জব উই মেট’ সিনেমায় ‘আওগে যব তুম সজনা’ গানের মাধ্যমে সারা দেশের মন জয় করে নেন তিনি। শাহরুখ খানের ‘মাই নেম ইজ খান’ সিনেমায় ‘আল্লা হ্যায় রহেম’ গানটি গেয়েছেন শিল্পী। ‘মান্টো’র ‘বোল কে লব আজাদ হ্যায়’ থেকে ‘মিতিন মাসি’র ‘বরসাত সাওয়ান’- প্রত্যেক গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন শিল্পী। ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান। সেবছরই সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি।

ক্যানসারের সঙ্গে বহুদিন ধরে লড়েছিলেন শিল্পী। তার মধ্যেই স্ট্রোক। অবশেষে থামল লড়াই। যদিও উস্তাদ রাশিদ খানের মতো শিল্পীদের মৃত্যু নেই। কারণ তাঁরা সুরের আকাশের উজ্জ্বল শুকতারা। তাঁদের কণ্ঠ থেকে যাবে আপামর ভক্ত শ্রোতার হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে। এদিন শিল্পীকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে এসেই মৃত্যুর খবর জানান চিকিৎসক। আপাতত পিস ওয়ার্ল্ডে শিল্পীর দেহ রাখা থাকবে। আগামিকাল সকাল দেহ নিয়ে যাওয়া হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে অনুরাগীরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন। বেলা একটায় শিল্পীকে গান স্যালুট দেওয়া হবে।