চট্টগ্রামে দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তর পৈতৃক বাড়ি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন ঃ এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত

41

।। চট্টগ্রাম থেকে সংবাদদাতা।। ৪ জানুয়ারি।। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার নেতা এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামী দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের (জে এম সেন) পৈতৃক বাড়ি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি কতিপয় ভূমিদস্যু কর্তৃক জবরদখল ও ভাঙচুরের অপচেষ্টার প্রতিবাদে আজ দুপুরে বাড়ির সামনে এক সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান এবং এই ঐতিহাসিক বাড়িতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতি রক্ষার্থে জাদুঘর স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিদেশিনী স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তা অবিভক্ত ভারতবর্ষে নিখিল ভারত কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রেল শ্রমিক আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলনে তৎকালীন সময়ে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত অবিভক্ত ভারতের কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের টানা পাঁচবার মেয়র ছিলেন। চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের অনেক স্কুল কলেজ রয়েছে। এছাড়া এই বাড়িতে মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহরু, নেতাজি সুভাষ বসু, মৌলানা মুহাম্মদ আলী ও মৌলানা শওকত আলী ভ্রাতৃদ্বয় সহ তৎকালীন সময়ের অনেক বরেণ্য নেতা এই বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। এছাড়া মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে যে সমস্ত আইনজীবী মাস্টারদার পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন তাঁরাও এই বাড়িতে ছিলেন।

নেলী সেনগুপ্ত ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে চিকিৎসার জন্যে ভারতে নিয়ে যান। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। কিন্তু নিজ বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। ১৯৭২ সালে সে বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হয়ে যায় এবং জনৈক শামসুদ্দিন ইসহাক সে বাড়ি লিজ নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে একদল লোক পুলিশের সহায়তায় বাড়ির মালিকানা দাবি করে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিলে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ছুটে যান। বাড়ি ভাঙতে বাধা দেন। এ অবস্থায় লোকগুলো চলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ্যাড. দাশগুপ্ত তাঁর বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যে উদাত্ত আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, রুমকি সেনগুপ্তা, সাংবাদিক অলিউর রহমান, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রুবেল পাল, গোপাল দাশ টিপুর সহ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

প্রতিবাদ নিন্দা

দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তার ঐতিহাসিক বাড়ি ভাঙচুর ও জবর দখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে প্রদত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে সই করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সহ-সভাপতি কাজল চৌধুরী, ঐক্য পরিষদ দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, ঐক্য পরিষদ উত্তর জেলার সভাপতি অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.অজিত নারায়ণ অধিকারী, কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, কেন্দ্রীয় সদস্য এ্যাড প্রদীপ কান্তি চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. চন্দন বিশ^াস, সহ-সম্পাদক বিশ^জিৎ পালিত, বিকাশ মজুমদার, যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুবেল পাল ও শম্ভু সরকার প্রমুখ।