চট্টগ্রামে ঐক্য পরিষদের সমাবেশে এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স ঘোষণার প্রয়োগ চাই

73

প্রেসবিজ্ঞপ্তি।। দেশব্যাপী অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, এসব হামলা পরবর্তীতে আর বিলাপ করে নয়, হামলা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত জিরো টলারেন্স এর দ্রুত প্রয়োগ চাই। প্রশাসন, আইন শৃংখলারক্ষাকারী সংস্থাা, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিলে সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠী আন্তরিকভাবে একে স্বাগত জানাবে, তারাও এর সাথে দৃঢ়ভাবে অংশ নিতে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, কথায় নয় দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জাতিকে আশ^স্ত করার সময় এসেছে। এ্যাড. দাশগুপ্ত বলেন, বিরাজিত সংখ্যালঘু পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিগত সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সরকারি দল সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ও পার্বত্য শান্তি চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের কার্যকরিকরণ, সমতলের আদিবাসীদের জন্যে পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিল। আজ তা বাস্তবানের সময় এসেছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি সমাবেশে দু’দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আর তা না হলো আগামি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কয়েক লক্ষ নাগরিকের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে গণস্বাক্ষর সম্বলিতস্মারকলিপি প্রদান করা এবং আগামি বছরের (২০২০ সালে) ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে গণমিছিল বা রোড মার্চ। জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য ড. জিনবোধী মহাথেরোর সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রুবেল পালের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নিতাই প্রসাদ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সদস্য এ্যাড. প্রদীপ চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাধন ধর, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও নিলু নাগ, মহানগর পূজা পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অর্পণ ব্যানার্জি, রানা বিশ^াস, সুমন দেবনাথ ও শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত দত্ত, দিবেশ চন্দ্র নাথ ও জিতেন গুহ, মিথুন মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ নাথ দেবু, সহ-সম্পাদক বিশ^জিৎ পালিত, দপ্তর সম্পাদক অনুপ রক্ষিত, ডা. তপন দাশ, উত্তম কুমার দাশ, ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ও অধ্যাপক শিপুল দে, টিংকু চক্রবর্তী, বিজয় কৃষ্ণ দাশ।

আরো উপস্থিত ছিলেন দীপংকর চৌধুরী কাজল ও রতন আচার্য্য, সুবল দাশ, তরুণ দাশগুপ্ত ভানু, বিপুল কান্তি দত্ত, কল্লোল সেন, অলক মহাজন, সুগ্রীব মজুমদার দোলন, নিউটন সরকার, চন্দন মজুমদার, দেবরাজ রতন, রূপক শীল, রাজীব দাশগুপ্ত, কাজল শীল, বিমল চন্দ্র নাথ, বাপ্পি দাশ, লিটন শীল, কৃষ্ণ কান্ত ধর, পুলক চৌধুরী, এ্যাড. অমিত লালা, উত্তরের সদস্য সচিব রিমন মুহুরী, সিজার বড়–য়া, সঞ্জীব দেব সুমু, অজিত কুমার শীল, সজিব সিংহ রুবেল, স্বরূপ পাল, বিকাশ কান্তি দাশ, গোপাল দাশ টিটু, জিৎকর বাবু, এ্যাড. অনুপম বিশ^াস, মুনমুন দত্ত মুন্না, এ্যাড. মান্না দে, এ্যাড. তপন দাশ, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, রবি শংকর দে, রিপন সিংহ, বিভাষ বিশ^াস, তরুণ দাশ, এ্যাড. জুয়েল দাশ, এ্যাড. কমল দে, এ্যাড. টিপু শীল জয়দেব, এ্যাড. পার্থ নন্দী, সুমন চন্দ্র নাথ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও কর্মীবৃন্দ স্ব স্ব ব্যানার সহকারে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আন্দরকিল্লা মোড়ে এসে শেষ হয়।