ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে উপকূলীয় নয় জেলা ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ জনের মৃত্যু

3

ডেস্ক রিপোর্ট।। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলাগুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মোহাম্মদ এনামুর রহমান বুধবার(২৬ মে) বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের বড় রকমের প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে ডুবে ফেনীর সোনাগাজী ও বরগুনার বামনায় ডুবে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তারা মাছ শিকারে গিয়েছিল। ভোলার লালমোহনে গাছ চাপায় এক রিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। ফেনীতে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে একজন মারা গেছে।

প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, মঠবাড়ীয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন জেলায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট বেশি ছিল। কোন কোন জায়গায় বেড়ি বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙেছে। তবে অবস্থা এখন স্বাভাবিক, আশ্রয়কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নিয়েছিল দুপুরের দিকে তারা বাড়িঘরে ফিরে গেছে।

পিরোজপুরে মঠবাড়ীয়া উপজেলার মাঝের চর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় ১০/১২টি মাছের ঘের এবং কয়েক একর সবজি বাগান পানির নিচে চলে গেছে। ভোলায় দুর্গম চরে প্রায় ২৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে ৯০০ গরু/মহিষ ভেসে গেছে। বাগেরহাটে প্রায় তিন হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝড়ের আগেই উপকূলীয় জেলা, উপজেলাসমূহে ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য আদান-প্রদানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানে সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।

এনামুর রহমান বলেন, উপকুলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আনসার ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। ঝড় আঘাত হানলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত ছিল । মানবিক সহায়তার যথেষ্ট সংস্থান আগে থেকেই করা ছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট মাস্ক এবং স্বাস্থ্য উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছিল।