খুলনার রূপসায় সাম্প্রদায়িক হামলা, বাড়িঘর দোকানপাট ও মন্দির ভাঙচুর লুটপাট

58

ডেস্ক রিপোর্ট।। ৭ আগস্ট।। আজ শনিবার আনুমানিক অপরাহ্ন ছ’টার দিকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালি গ্রামে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট শিয়ালি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলারা কীর্তন করতে করতে শিয়ালি মহাশ্মশান মন্দিরে যাওয়ার পথে পার্শ¦বর্তী মসজিদের সামনে কীর্তন বন্ধ করা নিয়ে ইমামের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নজরে এলে রোববার ৮ আগস্ট স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্ররোচনায় পাশ্ববর্তী  চাঁদপুর, বামনডাঙ্গা, শেখপুরা  গ্রামের কয়েকশো লোক আজ একযোগে হিন্দু অধ্যুষিত শিয়ালি গ্রামে অতর্কিত আক্রমণ করে গ্রামের সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির, মহাশ্মশান মন্দির ও গোবিন্দ মন্দিরের প্রতিমা এবং অনির্বান হীরার দোকান, প্রীতম মজুমদারের মেশিনারি দোকান, পনেশ মল্লিকের ঔষধের দোকান, শ্রীবাস মল্লিক ও সৌরভ মল্লিকের মুদি দোকান, বলাই মল্লিকের চায়ের দোকানসহ বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দুস্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও এবং সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে খুলনার রূপসা উপজেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করেন। বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দেশে বারবারই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে।

খুলনা জেলা যুব ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন, রাত এগারোটায় শেষ খবর পাওয়া পযন্ত তারা সেখানে রয়েছেন।