খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ইসলামি নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

4

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ।। ভাস্কর্যবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা নেওয়ার আবেদন করেছেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ আবেদন করা হয়। আদালত এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী বলেন, আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। আদেশ পরে দেবেন বলে জানিয়েছেন। মামলার আরজিতে খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ মামুনুল হক এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নেতা সৈয়দ ফয়জুল করীমের নামও আছে।

মামলার আরজিতে বাদী এ বি সিদ্দিকী দাবি করেন, গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডের বি এম এ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় আসামি মামুনুল হক ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আর জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক সভায় ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আসামি ফয়জুল করীম বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের এক জনসভায় ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। ভাস্কর্য তৈরি করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আসামি ফয়জুল করীম।

এর আগে খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সরকারকে পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা জাতির পিতা, দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বিশ্বের কাছে দেশকে হেয়প্রতিপন্ন করছে।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে ঐক্যজোট করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তার ছেলে তারেক রহমানকে দিয়ে জঙ্গিবাদীদের দিয়ে গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামি লিগের ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০১৪ সালে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির গুন্ডা বাহিনী ভয়াবহ পেট্রোলবোমা মেরে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এ অবস্থায় আবার এই স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানিদের দালালচক্র খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী জাতির পিতার ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন কার্যকলাপ ও সংঘাত সৃষ্টি করে। তাদের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার ভাস্কর্যের ওপর হামলা চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুদা’র ভাস্কর্যের একটি কান ভেঙে দেয়া হয়।