কিছু শক্তি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে ফপাটল ধরাতে চায়, তা সফল হবে না

1

সংবাদদাতা।। অভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। কিন্তু এই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু শক্তি  সক্রিয় রয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই এরা কাজ করছিল। তখনো এরা সফল হয়নি, এখনো হবে না। কারণ এই সম্পর্ক জনগণের সম্পর্ক, রক্তের সম্পর্ক।

অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদ ও ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তাগণ এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ধানমন্ডি ২ নং সড়কে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শুরু হয় নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফজলে আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির বীরবিক্রম, পদ্মশ্রী। মুখ্য আলোচক ছিলেন সম্প্রীতি পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান সাংবাদিক বাসুদেব ধর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মৃন্ময় চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন সম্প্রীতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাদিয়া শারমিন, কো-চেয়ারম্যান তন্দ্রা বড়–য়া ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। সভা সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ হোসেন।

সংসদ সদস্য ফিরোজ কবীর বলেন, মহাত্মা গান্ধীজি যা বিশ্বাস করতেন তাতে অটল থাকতেন। অসত্য ও অন্যায়ের  কাছে কখনো মাথা নত করেননি। আজকের রাজনীতিতে এই ধারাটাই নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গান্ধীজির ধারা অনুসরণ করে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, মহাত্মাকে আলোচনার এই ছোট্ট ক্যানভাসে ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁর জীবন ও সত্যদর্শনকে রাজণীতিতে ধারণ করতে পারলেই রাজনীতি শুদ্ধ হবে, হানাহানি থাকবে না।

সাজ্জাদ জহির বলেন, বঙ্গবন্ধু গান্ধীজির আদর্শের সন্তান। মহাত্মা মন পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুও তা-ই। আমরা সবাই তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছি। জহির বলেন, মৃত্যুর পর মহাত্মা ও বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী হয়েছেন। তবে দুঃখজনক হচ্ছে,  ভারতের মানুষ গান্ধীজিকে স্মরণ করেন, অনুসরণ করেন না। বাংলাদেশের মানুষও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন, অনুসরণ করেন না।