কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যুতে ১৩টি দেশের কূটনীতিকদের উদ্বেগ

8

ডেস্ক রিপোর্ট।। কারা হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশে ১৩টি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বছরের ৫ মে থেকে মুশতাক আহমেদ কারাবন্দি ছিলেন। বেশ কয়েক বার তাঁর জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে কূটনীতিকরা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা ও বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে মান প্রশ্ন তোলা হবে।

বিবৃতিতে সই করেছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড, কানাডার হাইকমিশনার বেনোইত প্রিফনটেইন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসটার্প পিটারসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মেরিন সুউহ, জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টজ, ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াতো, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারউইজ, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-এসভেন্ডসেন, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডা আসিস বেনিটেজ সালাস এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে।

অন্যদিকে লেখক মুশতাক আহমেদের কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত, স্বচ্ছ এবং স্বতন্ত্র তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এছাড়া, কারাবন্দি কার্টুনিস্ট কিশোরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবির পাশাপাশি তাকে কারা হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তও চেয়েছে সংস্থাটি। গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্ক থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছে সিপিজে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যারা স্বাধীনভাবে সামাজিক মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের চেষ্টা করছেন তাদের জীবনে নেমে আসছে এক দুর্বিষহ পরিণতি। তার সর্বশেষ শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ।

ফখরুল বলেন, মুশতাক একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন, তিনি চিরদিন অধিকার হারা মানুষের কাছে প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিনের জন্য বিরাজ করবেন। তিনি আরো বলেন, দেশে আইন-কানুন, সুষ্ঠু বিচারিক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই সারা দেশে এক শ্বাসরোধী পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে-বেদনায় ফেটে পড়েছে। তার মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্তশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

এদিকে রাজধানীর শাহবাগ থানাকে ‘পুলিশ লিগের আস্তানা’ আখ্যা দিয়ে আজ শনিবার দুপুরে এর সামনের রাস্তা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। এ সময় থানার বন্ধ ফটকের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিচার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি ও আইনটি বাতিলের দাবিতে আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে রাজধানীর পরীবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। একই দাবিতে গতকাল শুক্রবার মশাল মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাত নেতা-কর্মীর মুক্তিও দাবি করেন তাঁরা। গতকাল সন্ধ্যায় মশালমিছিল করতে গেলে শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। বাম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে।