কানাডার সন্ত্রাসবাদী তালিকায় আইএস বাংলাদেশের নাম, ঢাকা বলছে এ নামে সংগঠন নেই

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। কানাডা সরকারের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ-এর নাম উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, এই গোষ্ঠীটি আইএস-এর বাংলাদেশি শাখা সংগঠন। বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে এই নামে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই।

বিশ্বের কয়েকটি দেশের মতো কানাডাতেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অন্যতম উপায় হলো ক্রিমিনাল কোড বা চরমপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর নাম তালিকাবদ্ধ করা। কানাডার সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কানাডার নাগরিকদের প্রত্যাশা যে তাদের সরকার দেশের মূল্যবোধ, অধিকার এবং স্বাধীনচেতা বৈশিষ্ট্যকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তার অংশ হিসেবেই এবারে ১৩টি চরমপন্থী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে কানাডার সরকার। এ নিয়ে তাদের ক্রিমিনাল কোডে মোট ৭৩টি নাম সংযুক্ত হলো।

নতুন তালিকায় আইএস-এর পাঁচটি সহযোগী গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ। কানাডায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অন্যতম উপায় হলো চরমপন্থি গোষ্ঠীর নাম তালিকাবদ্ধ করা।

তবে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ নামে বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন নেই। এজন্য কানাডার ওই তালিকার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ নামে বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব আমাদের জানা মতে নেই। কানাডার ওই তথ্যে সমস্যা আছে বলে আমার মনে হয়। ওই বিবৃতিতে ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশকে আইএস এর শাখা সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উপ কমিশনার জানান, বাংলাদেশে আইএস বা এর কোন সহযোগী সংগঠন নেই। তিনি জানান, আইএস- এর আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন আছে, যেটাকে নব্য জেএমবি (জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) বলা হয়। কিন্তু ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ বিষয়ে বা আই এস-এর সাথে এমন কোন গোষ্ঠীর যোগাযোগ আছে কিনা, সেটা আমাদের জানা নেই।

কানাডার ওই তালিকায় আইএস সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রুপগুলো হলো: ইসলামিক স্টেট ইস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স, ইসলামিক স্টেট ইন গ্রেটার সাহারা, ইসলামিক স্টেট ইন লিবিয়া, ইসলামিক স্টেট ইন ইস্ট এশিয়া। তালিকায় আল-কায়েদার তিনটি সহযোগী গোষ্ঠীর নামও স্থান পেয়েছে। সেগুলো হলো, জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন, ফ্রন্তে লিবারেশন ডু মেসিনা, এবং আনসার ডাইন। এছাড়া চারটি গ্রুপ আছে যারা আদর্শিকভাবে হিং¯্র চরমপন্থী। এরা হল, অ্যাটম ওয়াফেন ডিভিশন, বেইস, দ্য প্রাউড বয়েজ এবং রাশিয়ান ইম্পেরিয়াল মুভমেন্ট। ভারতের কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের সক্রিয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের নামও তালিকায় উঠে এসেছে।

এই গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আইনগত উপায়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের পক্ষে জেনেশুনে কাজ করেছে, সহযোগিতা বা মদদ যুগিয়েছে, নির্দেশনা দিয়েছে তাদেরকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কানাডায় কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই তালিকার কারও সাথে জেনেশুনে অর্থ-সম্পদ লেনদেন করলে সেটা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তালিকাভুক্ত কারও কানাডায় কোন অর্থ-সম্পদ থাকলে, দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেটা জব্দ করতে পারবে।

কানাডীয় দাতব্য সংস্থা যাদেরকে সহায়তা দিয়ে থাকে তাদের কারও সাথে এই তালিকার কারও যোগাযোগের প্রমাণ পেলে ওই সংস্থাটি তাদের সহায়তা তুলে নিতে পারবে। এছাড়া কানাডায় আসতে ইচ্ছুক এমন কোন ব্যক্তির সাথে যদি এই তালিকার কারও সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে – তাহলে তার জন্য কানাডায় প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে কানাডার জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার বলেন, কানাডায় সহিংস সন্ত্রাসবাদের কোনও স্থান নেই। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর এই ক্রিমিনাল কোড তালিকা চরমপন্থার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা হয় যে এই তালিকায় কারও নাম থাকা উচিত কি না।