করোনা সচেতনতা নিয়ে সরকারি আলোচনা সভায় হেফাজতের ভিডিও

10

সংবাদদাতা।। করোনা ভাইরাস যখন দেশকে আবার মরণ কামড় দিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশের আনাচে-কানাচে তৎপর হয়ে উঠেছে। দেশ জুড়ে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি মানুষে-মানুষে বিভেদ তৈরি করে চলেছে। সরকারের প্রশাসনেও ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি। এমনকি এই শক্তির কাছে মাথা নত করে আছে সরকারি দলের বেশ কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হুমকি দেয়া চলছে দেশের বেশ কিছু জায়গায়। সেখানে প্রশাসনের সাথে হাত মিলিয়েছে সরকারি দলের নেতারাও।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও নীলফামারী জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত পাঠানো চিঠির আলোকে শুক্রবার (২ এপ্রিল) জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব হাসান মোবাইল ফোনে সকাল ১১ টায় জলঢাকার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা-কর্মীদের ডেকে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সেই সভায় উপস্থিত হন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা পর্যায় এবং প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আয়োজিত এই আলোচনা সভায় অংশ নেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল এবং জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। ঐক্য পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের উপজেলা সভাপতি লিটন কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন রায় রনজু, উপজেলা পর্যায়ের অবিনাশ জিতিশ, শ্রীহরে সহ জলঢাকা উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

এই আলোচনা সভার বিষয়বস্তু করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলেও, সভায় ইউটিউব থেকে হেফাজতে ইসলামের হুমকি সম্বলিত ভিডিও দেখানো হয়। স্বাভাবিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা শংকিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।  প্রশ্ন উঠেছে করোনা সংক্রমণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আলোচনা সভায় হেফাজতে ইসলামের ভিডিও প্রচার করার উদ্দেশ্য নিয়ে। পরিষদ নেতারা অভিযোগ করেছেন, জলঢাকা উপজেলার প্রশাসন তো বটেই, খোদ সরকারি দলের নেতা, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল নিজে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমে সহায়তা করেন।