করোনা রুখতে সারাদেশে গণটিকাদান শুরু

1

ডেস্ক রিপোর্ট ।। নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশে শনিবার (৭ আগস্ট) থেকে গণটিকাদান বা ‘ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’ শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে এই কর্মসূচি চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার জন্য প্রথমে ছয়দিন ধরে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে পরবর্তীতে টিকার স্বল্পতায় সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।

শনিবার করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনার পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমে অংশ নিতে দেশজুড়ে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরকার প্রথমেম রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দেয়ার নিয়ম চালু করলেও এবার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েই টিকা নিতে পারছে মানুষ।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা গ্রহীতাদের কাছ থেকে পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখা হচ্ছে যেগুলো তারা নিজেরাই পরে মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করে দেবেন। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহীতারা স্বাস্থ্য বিভাগের টিকা সম্পর্কিত এসএমএস পেয়ে যাবেন।

অবশ্য ভিড়ের কারণে ঢাকাসহ নানা জায়গায় অনেক কেন্দ্রেই চরম অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হতে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) ভবন প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের কাছে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছিলেন, সারা দেশে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকারী ও ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে একযোগে টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে দেশে করোনা সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ২৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর হিসেবে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ১৩৬ জন। আগের দিনের তুলনায় করোনায় মৃত্যু বাড়লেও শনাক্ত রোগী কমেছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার নমুনা পরীক্ষাও কম হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩১ হাজার ৭১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আগের দিন ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১২ হাজার ৬০৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৬। মোট মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৪১১ জনের।