করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ, বিধিনিষেধের ফল এখনো দৃশ্যমান নয়

7

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্ত। মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের ফল এখনো দৃশ্যমান নয়। প্রথম দুতিন দিন মানুষ ঘরে থাকলেও এখন খোদ রাজধানীতেই কোথাও কোথাও যানজটও চোখে পড়ছে। বুধবার রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ১৯৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বৃহস্পতিবার ১১ হাজার ৬৫১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে । এটা সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এই অবস্থায় সারাদেশের সব বিভাগ ও জেলা প্রশাসনকে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ এবং করোনা রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের অনুষ্ঠিত এক সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, যাদের শরীরে করোনার উপসর্গ আছে তাদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় মুখ্য সচিব অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধিসহ হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

দেশে একদিনে করোনাভাইরাসে সংক্রমণে নতুন রোগী শনাক্তে আবারও রেকর্ড হয়েছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) ১১ হাজার ৬৫১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৯৯ জনের। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৫২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ৬ জুলাই।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৬ হাজার ৮৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের দিন বুধবার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। ওই সময় মৃত্যু হয়েছিল ২০১ জনের।

সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৭৯২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। চট্টগ্রামে মারা গেছেন ৩৭ জন এবং রাজশাহীতে ১৫ জন। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সেখানে বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।