করোনায় মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় করোনাভাইরাসে মৃত মোহাম্মদ সাজেদ উল্লাহ নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা তাঁর লাশ দাফন করেন। এ ছাড়া বিদায়কালে রাষ্ট্রীয় সম্মানও পাননি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলা ট্রিবিউন।

মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজেদ উল্ল্যাহ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে মারা যান। বুধবার (০৪ আগস্ট) সকালে তাঁকে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৮টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা করিম সাহেব ফোন করে বলেন, সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা সাজেদ উল্ল্যাহর জানাজা। আমরা সে হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল ৯টার দিকে জানতে পারি, দাফন হয়ে গেছে। যে কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর বাধা দেওয়ার বিষয়টি আমাকে তার পরিবার অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কেউ অবহিত করেননি। জানলে এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।

তিনি আরও বলেন, দাফন হয়ে গেছে জানার পর সাজেদ উল্ল্যাহর ছেলেকে (হোসেন মোহাম্মদ জামিল) ফোন করেছিলাম। তিনি বলেছেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও করোনায় আক্রান্ত। বিশেষ করে তার মা করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে আছেন। যে কারণে তার শহরে থাকাটা জরুরি। এ জন্য জন্য দ্রুত দাফন করে তিনি শহরে চলে যান।

সাজেদ উল্ল্যাহর ছেলে হোসেন মোহাম্মদ জামিল বলেন, আমরা শহরে থাকি। বাবার মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে বাসায় এলে বাড়ির লোকজন অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেয়নি। গোসল করানো, কবর খোঁড়া ও দাফন করতে পারবে না বলে জানান তারা। বিষয়টি করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’কে খবর দেন। তারাই দাফনের ব্যবস্থা করেছে।

বাধা দেওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনওকে অবহিত করতে সকাল ৬টায় তার বাসায় গিয়েছিলাম। খুব সকাল হওয়ায় তার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করতে পারিনি। পরে বিষয়টি আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জানাই। তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানালেন। পরে জানালেন, জেলা প্রশাসনের লোকজন আসতে সকাল ১০টা বাজবে। এর আগে করলে লোকজন পাওয়া কষ্ট হবে। পরে আবার মোবাইল ফোনে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে বলি, যেহেতু গ্রামের লোকজন জানাজায় আসবে না, আপনাদেরও আসতে সময় লাগছে, আমাকেও দ্রুত শহরে যেতে হবে, আগেই দাফন করে ফেলি। তাই সকাল ৯টায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় দাফন সম্পন্ন করলাম।