করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ কমলেও বিধিনিষেধ আবারও বাড়লো

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু আরও কমেছে, কমেছে শনাক্তের হারও। তারপরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৫ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, এখন যেমনভাবে বিধিনিষেধ চলছে, তেমন করে আরও এক সপ্তাহ এ বিধিনিষেধ বাড়িয়ে ২৩ মে পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। বিধিনিষেধ সত্বেও ঈদে যেভাবে কেনাকাটা হয়েছে এবং ট্রেন লঞ্চ ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও মানুষ যেভাবে গাদাগাদি করে নানা যানবাহনে ও ফেরিতে রাজধানী ছেড়েছে তাতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনার আবারো ঊর্ধগতির আশঙ্কা করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় ধরনের উপস্থিতির শঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা তাই ঈদের ছুটির পর মানুষের আবারও গাদাগাদি করে ঢাকা ফিরে আসা বিলম্বিত করার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারকে। মৃত্যু ও সংক্রমণ কমলেও এই প্রেক্ষাপটে বিধিনিষেধ বাড়ানো হলো।

ঈদের পর দিন অর্থাৎ আজ শনিবার দেশে করোনাভাইরাসে ২২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিগত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) মৃত্যুর এই সংখ্যা শুধু চলতি মাসের শুরুর দিকের দৈনিক মৃত্যুর অর্ধেকেরও কমই শুধু নয়, গত তিনমাসের মধ্যে সর্বনি¤œ। অন্যদিকে বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২৬১ জনের। এই সংখ্যাও কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত ১ মে দেশে করোনায় ৬০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঈদের দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা বিগত কয়েক দিনের তুলনায়ও বেশ কম। গতকাল শুক্রবার আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জন এবং বৃহস্পতিবার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা ছিল, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ২৩ মে। আর বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে। কিন্তু বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর বাড়ানোর কারণে ঘোষিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। শুধু তা-ই নয়, আরও কিছুদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও প্রথমে তা সবার জন্য খুলবে না। প্রথমে শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ খোলা হবে। তাদের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে ক্লাস করানোর পর পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে ১৪ মাস ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকে ঘাটতি নিয়ে ওপরের ক্লাসে উঠছে। কতটুকু শিখল, সেটাও যাচাই করা যাচ্ছে না।

এদিকে আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা সংক্রমণ সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের বাঁধভাঙা জন¯্রােত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ঈদের আগে রাজধানী ত্যাগের সময়ও এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমতাবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালনের আহ্বান জানান তিনি। শনিবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।