করোনার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ডেঙ্গু, বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর সুপারিশ

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ডেঙ্গু। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ ৫ আগস্টের পরও বহালের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা এ বি এম খুরশীদ আলম শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুরশীদ আলম বলেন, যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, আমরা কীভাবে এই সংক্রমণ সামাল দেবো ? রোগীদের কোথায় জায়গা দেবো ? সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব? অবস্থা খুবই খারাপ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব বিবেচনাতেই আমরা বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি।

প্রথম ধাপে গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয়ে ৫ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী লকডাউন দেওয়া হয়। এরপরই ০৭ জুলাই মধ্যরাত হতে ১৪ জুলাই তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধর সময়সীমা বাড়ানো হয়। এরপরই ঈদকে সামনে রেখে কঠোর বিধিনিষেধ এক সপ্তাহের জন্য শিথিল করা হয়। তৃতীয় ধাপে ২৩ জুলাই সকাল ৬ টা থেকে শুরু হয়ে আগামি ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন সময়সীমা বাড়ানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০ হাজার ৪৬৭ জনে। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮৬২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ৪০ হাজার ১১৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ৫৬৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৪৪টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৯ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৩০ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ১৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৯ জনে। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৬৭৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন।