করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে শঙ্কা, বাংলাদেশে ঈদের পর লকডাউন বাড়ছে

6

ডেস্ক রিপোর্ট।। ঈদের ছুটির পর আগামি ১৭ মে থেকে আবারও ৭ দিনের লকডাউন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে জনসাধারণকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮-এর সংশোধনী এনে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা (ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার)  দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামি জুনের শুরুতে বাংলাদেশে আবারও বাড়তে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এর মধ্যে করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে নেপালের মতো পরিস্থিতি হতে পারে। ভারত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ রাখার পরামর্শও তাদের। তারা বলছেন, বিশ্বজুড়েই এখন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভারতীয় ধরন। পাশের দেশ হওয়ায় সতর্ক পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। যেমনটি হয়েছে নেপালে। কিছুদিন আগেও নেপালে ভালো পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু হঠাৎই পরিস্থিতির অবনতি হয়। এদিকে ঈদের পর লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সীমিতসংখ্যক যারা বাংলাদেশে আসছেন তাদের যথাযথভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ঈদের পর আরও কয়েক দিন যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে অর্ধেক কর্মী নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় জনসমাগম বন্ধ রাখতে হবে। কঠোরভাবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। টিকা দিলেও বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। তাহলেই করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহীদুল্লাহ বলেন, ভারত ভ্যারিয়েন্ট যদি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে জুনে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। দ্বিতীয় যে ঢেউটা কমিয়ে আনা হয়েছে তা আবার ইউটার্ন নিতে পারে। এজন্য আমাদের সীমান্ত আরও কিছুদিন বন্ধ রাখতে হবে।

এদিকে ঈদ শপিং আর ঈদযাত্রায় বাধা হতে পারেনি করোনা সংক্রমণ। ঝুঁকি নিয়েই মানুষ বাড়ি ফিরেছে। ঈদের কেনাকাটা করেছে ক্রেতাসাধারণ। সর্বত্রই উপচে পড়া ভিড়। একজনের গায়ে অন্যজন লেগে কেনাকাটা করছে। বাড়ি ফিরতে গিয়ে লঞ্চেও ছিল বিপুলসংখ্যক মানুষ। সর্বত্রই উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। অনেক মানুষই পরছে না মাস্ক। মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। মানুষের এভাবে বাড়ি ফেরা এবং ঈদ-পরবর্তী একইভাবে কর্মস্থলে যোগদান ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করতে পারে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, ঈদে মানুষ যেভাবে বাড়ি গেছে, যেভাবে কেনাকাটা করেছে তাতে সংক্রমণ বাড়বে এ নিয়ে সন্দেহের কোনও কারণ নেই। তাই আবশ্যিকভাবে শতভাগ জনগোষ্ঠীকে মাস্ক পরানোর বিকল্প নেই। এটি বাস্তবায়নের জন্যই পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কিছুটা নিম্নগামী হলেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছে সরকার। এ কারণেই চলমান ‘লকডাউন’ ঈদের পরেও অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু আগের দিনের তুলনায় অবশ্য কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) মারা গেছেন ৩১ জন। আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ৪০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯০ জনের। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৭। আর নতুন করে ৩১ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৬।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেভাবে স্বাস্থ্যবিধির চূড়ান্ত লঙ্ঘন করে মানুষজন রাজধানী ছেড়েছে, তারা আবারও ঈদের পর একইভাবে রাজধানীতে ফিরবে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই ঈদের পরে একই শর্তে চলমান লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। যারা রাজধানী ছেড়ে গ্রামে গেছেন, এতে যদি তাদের অর্ধেক পরিমাণ মানুষও আটকে রাখা যায় তাহলে কিছুটা হলেও সুবিধা পাওয়া যাবে।

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন পালন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। কয়েক ধাপে বাড়িয়ে চলমান সেই লকডাউনের মেয়াদ ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময় আন্তজেলা বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে।