করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

6

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভারতে আশঙ্কাজনক হারে সক্রিয় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়াচ্ছে। ডাবল ও ট্রিপল মিউট্যান্ট ভাইরাসের কথা শোনা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে।  যদি ঢুকেই পড়ে তবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ওটাকে সামাল দিতে প্রস্তুত নয় বলে শঙ্কা তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখনও এই ভ্যারিয়েন্ট রিপোর্ট হয়নি। যেহেতু ভারত একেবারেই কাছের দেশ, তাই দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট আসতে বেশি দেরি লাগবে না। আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ যতই বন্ধ থাকুক-তাতে সেখানকার ভাইরাস আসবে না, এই নিশ্চয়তা নেই।

ভারতে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়ন করে একদল বিশ্লেষক বলেছেন, করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩০৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৫ হাজার ৭৮৬ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৮ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ১৫০ জন। রোববার করোনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২ হাজার ৯২২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এদিকে করোনার বিস্তাররোধে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, দোকান-শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেই লকডাউনের সময় বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে দোকানপাট সকাল ১০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে চলমান বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার এবং টিকা কার্ড নিয়ে টিকার জন্য যাওয়া) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত বছরের মতো এবারও মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। যারা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসবেন, তাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নামাজ আদায় করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন।