করোনাকালে সাত মাসে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের চালচিত্র সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি ঐক্য পরিষদের

61

।। বিশেষ প্রতিনিধি।। চলতি বছরে (২০২০ সালে) করোনাভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ মহামারীতেও ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস পূর্বেকার মতো অব্যাহত রয়েছে। এসব সন্ত্রাসের কোন কোনটির সাথে সন্ত্রাসীরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীর পরিচয় দিয়েছে। বিগত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর-এ ৭ মাসের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের চালচিত্র :

হত্যার শিকার- ১৭ জন, হত্যাচেষ্টার শিকার- ১০ জন, হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে- ১১ জনকে, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার- ৩০ জন, ধর্ষণের চেষ্টা- ৬ জনকে, শ্লীলতাহানির কারণে আত্মহত্যা- ৩ জন, জোরপূর্বক অপহরণের শিকার- ২৩ জন, অপহরণের চেষ্টা- ২ জনকে, নিখোঁজ- ৩ জন, প্রতিমা ভাংচুর- ২৭টি, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা- ২৩টি, শ্মশান/ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের ঘটনা- ৫টি, বসতভিটা, জমিজমা, শ্মশান থেকে উচ্ছেদের ঘটনা- ২৬টি, বসতভিটা, জমিজমা, শ্মশান থেকে উচ্ছেদের অপপ্রয়াসের ঘটনা- ৭৩টি, দেশত্যাগের হুমকি দেয়া হয়েছে- ৩৪ জনকে, গ্রামছাড়া করা হয়েছে- ৬০টি পরিবারকে, ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য হুমকি- ৪ জনকে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ- ৭ জনকে, বসত-ভিটা/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের ঘটনা- ৮৮টি, দৈহিক হামলায় গুরুতর জখম- ২৪৭ জন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ত্রাণ বিতরণকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে- ২০টি পরিবারকে এবং মহানবীকে কটুক্তির মিথ্যা অভিযোগে আটক- ৪ জন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিজস্ব সূত্র, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ ও শীর্ষ গণমাধ্যম থেকে প্রাপÍ তথ্যের ভিত্তিতে বিগত সাত মাসে করোনাকালীন সময়ের এই সাম্প্রদায়িক চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ চালচিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত ৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশে নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো- ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভয়ে ভীত করে উচ্ছেদের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা যাতে, বাংলাদেশ সংখ্যালঘুশূণ্য দেশে পরিণত হয়। পাকিস্তানি আমলের সাম্প্রদায়িক মহলবিশেষের এ ঘৃণ্য চক্রান্ত স্বাধীন বাংলাদেশেও অব্যাহত রয়েছে। এ চেষ্টা ফলপ্রসূ হলে দেশ ও জাতি গভীর সংকটে নিপতিত হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি সুগভীর বিবেচনায় নিয়ে আনার জন্যে বিবৃতিতে সরকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বিগত নির্বাচনের পূর্বে সরকারি দল কর্তৃক প্রতিশ্রুত ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। সাধারণ সম্পাদক এই বিবৃতিতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকবলিত স্থান পরিদর্শনে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ‘পূর্বেকার চেয়ে ইতিবাচক’ হিসেবে মন্তব্য করে সন্ত্রাস রোধে ও সন্ত্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিতে অর্থবহ  ভূমিকা পালনের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।