কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো বাংলাদেশ

0

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মহামারি ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভাইরাসটির শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রায় প্রতি তিনজনে একজন করোনায় শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে একদিনে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯ হাজার ৫২১ জনে। এর আগে গত ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ১৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এটাও সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে। সোমবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে দেশে ১৯ জুলাই ২৩১ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। আগে সেটাই ছিল একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

দেশে এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এতে অংশ নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রধান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫৩ হাজার ৩১৬টি, আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৫২টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৫ লাখ ছয় হাজার ২৩৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬৯টি।

ঈদের ছুটির পর দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে একদিনে সর্বোচ্চ। রেকর্ড সংখ্যক নমুনা পরীক্ষায় দেশে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।