ঐক্য পরিষদের ৩২ বছর সংখ্যালঘুরা দাঁড়িয়ে আছে কোথায়।

109

। রানা দাশগুপ্ত ।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকারের আন্দোলন বত্রিশ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৮৮সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে নির্বাচিত তথাকথিত পার্লামেন্টে তৎকালীন সরকারি দল প্রেসিডেন্ট এরশাদের জাতীয় পার্টি তৎকালীন বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের রহস্যজনক নীরবতার মধ্যে ২২মে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্ম ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে সংবিধান সংশোধনের যে বিল এনেছিল তারই প্রতিবাদে এ সংগঠনের জন্ম।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলার জনগণের সম্মিলিত চেতনা ও সাংস্কৃতিক ধারার পরিপন্থী এ অগণতান্ত্রিক বিলের বিরোধিতায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির পক্ষে ঐদিনই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অবঃ) সি আর দত্ত বীরউত্তম, ভদন্ত বোধিপাল মহাথেরো, সাংসদ ও রাজনীতিক এ্যাডভোকেট সুধাংশু শেখর হালদার, ব্যারিষ্টার সুধীর চন্দ্র দাশ ও অধ্যাপক মানিক গ্যাব্রিয়েল গোমেজ তৎকালীন জাতীয় পরিষদের স্পীকার জনাব শামসুল হুদা চৌধুরীর কাছে এক স্মারকলিপি প্রদান করেন, যাতে বলা হয় ‘একটি রাষ্ট্র একটি স্বাধীন ও সার্বভোম জাতির রাষ্ট্রনৈতিক প্রতিরূপ হওয়াতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন করে ইসলামকে একমাত্র রাষ্ট্রধর্মরূপে ঘোষণা করার ফলশ্রুতি হবে ইসলামভিন্ন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশের অধিবাসীদের বিজাতীয়করণ, সমান নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিতকরণ, ধর্মানুশাসন পালনে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ, জাতির সাথে একাত্ম থেকে সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশংকা, পৃথক নির্বাচন প্রবর্তনের সম্ভাবনা, শিশুকাল থেকে বিধর্মী বলে পরিচিত হওয়ার আশংকা তথা গোটা জাতির একটি মিলিত অবস্থান থেকে বঞ্চিত করে ধর্মভিত্তিক সংকীর্ণ পৃথক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া, বিছিন্নতাবাদী আন্দোলনে প্ররোচনা দেয়া যাতে সার্বভৌমত্বের প্রতি মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি হয়। জন্মসূত্রের পরিবর্তে ধর্মসূত্রে প্রাপ্ত বিশেষ নাগরিক অধিকার গোটা জাতির সার্বিক অস্তিত্বের উপর আঘাত হানবে বলেই আমরা আশংকা করি।’
একই বছরের ২০ জুন পালামেন্ট গৃহীত এ বিল আইনে পরিণত হবার পরদিন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টি এমনকি জামায়াতে ইসলামীসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক দল ও জোট এ গণবিরোধী বিল আইনে পরিণত হবার প্রতিবাদে সারা দেশে এর পরদিন ২১ জুন অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছিল। ২২ জুন’১৯৮৮ সালে প্রকাশিত প্রায় সকল সংবাদপত্রের ভাষায়, ‘হরতাল হয়েছে তবে ঢিলেঢালা’।
ঐক্য পরিষদ স্মারকলিপি দিয়ে যে শংকা ব্যক্ত করেছিল আজও তার অবসান ঘটে নি। এরশাদের সামরিক শাসন, বিএনপি-জামাতের সা¤প্রদায়িক স্বৈরশাসনের পর বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এখন ক্ষমতায়। এ সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালের সামরিক ফরমান বলে এবং পরবর্তীতে তথাকথিত পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে বিসর্জিত রাষ্ট্রীয় চার মুলনীতি-গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুণঃস্থাপিত হলেও রাষ্ট্রধর্মের অবসান ঘটে নি। রাষ্ট্রধর্ম রেখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সরকারি দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সংবিধানের এ সংশোধনীতে আমরাও খুশি নই। এতে ধর্মনিরপেক্ষতা আছে, ধর্মতন্ত্রও আছে। আওয়ামী লীগ আবারো সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ফিরে এলে ৭২-র সংবিধানে ফিরে যাবে।’ এর বছরখানেক পর সরকারী দলের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য, বর্তমানে কৃষিমন্ত্রী জনাব আবদুর রাজ্জাক রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় যখন অনুরূপ বক্তব্য রেখেছিলেন তখন আরেক নেতা প্রকাশ্যে এর তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করে বলেছিলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব যা বলেছেন তা তাঁর একান্ত-ই নিজস্ব।’ এরপর এ ব্যাপারে আর কারো টুঁ শব্দটিও শোনা যায় নি। এ থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয়না ক্ষমতায় বঙ্গবন্ধুর গড়া দল আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দল নেই। এটি-ই আজকের বাস্তবতা। আর এ বাস্তবতায় বুঝে নিতে অসুবিধে নয় ঐক্য পরিষদের ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখা আজও কত প্রাসংগিক। এ আন্দোলন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনেরই প্রতিরূপ।
এ প্রাসংগিকতার কারণে এ সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটেছে সারা দেশে-তৃণমূলে এমনকি বিদেশেও যেখানে বাংলাদেশী সংখ্যালঘুদের অবস্থান রয়েছে। ঐক্য পরিষদ রাজনৈতিক দল নয় কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড় সংগঠনও নয়। তবুও রাজনৈতিক দলের মতো এর শাখা, প্রশাখা বিস্তৃত হচ্ছে সর্বত্র। ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের কাছে এ সংগঠনের আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভৃত হচ্ছে যেমনি ব্যাপকভাবে তার স্বকীয় স্বার্থ, অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে, তেমনি প্রকৃত গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী প্রগতিমুখী জনগণের কাছেও।
ঐক্য পরিষদের আত্মপ্রকাশ থেকে মোট ৭টি দাবিকে সামনে রেখে এ সংগঠনের মানবাধিকারের আন্দোলন গণতান্ত্রিক নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এগিয়ে গেছে গত তিন দশকেরও উর্দ্ধকাল ধর্মীয় সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর মানবতাকামী, গণতন্ত্রকামী, প্রগতিশীল শক্তি ও ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে। কোনপ্রকার রোমান্টিকতা বা হঠকারিতার পথ ধরে নয়। ঐক্য পরিষদ তার জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত দু’টি শ্লোগানকে ধারণ করে এগিয়ে গেছে। আর তা হলো ‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’, ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’।
ঐক্য পরিষদের জন্মকালের প্রথম দাবিতে উল্লেখিত ছিল, ‘সংবিধানের পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনীর ধর্মীয় বৈষম্যমুলক অসাংবিধানিক ধারাবলী বাতিল করতে হবে। ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়-ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই।’ দ্বিতীয় দাবিতে ছিল, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় চার মুলনীতির আলোকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা কর।’ এ দাবিকে অধিকতর স্পষ্ট করে পরিষদের পক্ষ থেকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত সংশোধিত প্রস্তাবনার স্থলে মুল প্রস্তাবনা প্রতিস্থাপন এবং বাতিলকৃত মূল ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনরায় সংযোজনের কথা বলা হয়। আরো বলা হয়, যদি সংবিধানের প্রস্তাবনার শিরোনামে কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বিবৃত করতে হয় তাহলে সর্বধর্মগ্রাহ্য ‘পরম সৃষ্টিকর্তার নামে আরম্ভ করিলাম’ সংযোজন করতে হবে। উপরোক্ত দু’টো দাবিকে যথাযথ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধুমাত্র রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত সংবিধানের বিলোপ ছাড়া সাংবিধানিক অপরাপর বিষয়াবলীর সমাধান ঘটেছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
তৃতীয় দাবি ছিল- ‘প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র বিভাগ, সরকারি প্রশাসন, সরকার নিয়ন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠানসহ সর্বপ্রকার রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে এবং শিল্প ও বাণিজ্যসহ জীবনের সকল বৈষয়িক ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমঅধিকার প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে বলা যায়, ঐক্য পরিষদের সুদীর্ঘ তিন দশকেরও উর্দ্ধকালের আন্দোলন বৃথা যায় নি। ৭৫-পরবর্তীকালে সরকারনিয়ন্ত্রিত নানান সংস্থায় নিয়োগ, পদোন্নতি এমনকি অংশীদারীত্বে-প্রতিনিধিত্বে নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনার যে প্রাধান্য ছিল, বিগত এক দশকে তা থেকে সরকার বেশ খানিকটা পিছিয়ে এসেছে। এতে এ দাবি পূরণে যথেষ্ট অগ্রগতি ঘটেছে। তবে তা’ অধিকতর প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থে। কেননা, জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সর্বক্ষেত্রে আজও অংশীদারীত্ব-প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় নি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবানুযায়ী দেশে
সমগ্র বাঙালি, আদিবাসী জনগোষ্ঠির শতকরা ১১ দশমিক ৬ ভাগ ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, মেধা বিবেচনায় নাগরিকের নিয়োগ, পদোন্নতির এ অগ্রগতিকে রুদ্ধ করার জন্যে সাম্প্রতিককালে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল মহল থেকে বিরূপ প্রচারণা চালানো হচ্ছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা কারো নজর এড়ানোর সুযোগ নেই।
চতুর্থ দাবি ছিল- ‘আদিবাসী স¤প্রদায়ের নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখার অধিকারসহ সর্বপ্রকার ন্যায়সংগত অধিকার প্রদান করতে হবে।’ আদিবাসী জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের জন্যে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে ন্যুনতম দু’দশকের সশস্ত্র লড়াই এবং একই সাথে সমতলে ঐক্য পরিষদের গণতান্ত্রিক মানবিক আন্দোলনের মিলিত ফলশ্রুতিতে শেষ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে সরকারের শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় ১৯৯৮ সালে, যা ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’ নামে খ্যাত। পার্বত্যঞ্চলের ভূমিবিরোধ নিরসনে ভূমি কমিশন আইনের ইতিবাচক সংশোধনীও এসেছে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকারের স্বীকৃতি মিলেছে, তবে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ে নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পরিচয়ে যা অবমাননাকর বলে এ দেশের মানবতাবাদী গণতন্ত্রপ্রেমী সর্বস্তরের জনগণ মনে করে, বিশ্বাসও করে। আন্দোলনে দাবি পূরণের ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা অগ্রগতি ঘটলেও প্রকৃত অর্থে এসবের বাস্তবায়নের লড়াই এখনো চলমান।
পঞ্চম দাবি ছিল- ‘কুখ্যাত অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি আইন বাতিল করতে হবে’। এ দাবি আজ অপ্রাসংগিক হয়ে গেছে। অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি আইন সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইন’-এ। তবে এটি ঠিক, পার্বত্য শান্তিচুক্তির মতো এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে গণবিরোধী আমলাচক্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাধার অপসারণে মানবাধিকারের আন্দোলনকে বেগবান করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
ষষ্ঠ দাবি ছিল- তথাকথিত ‘স্বাধীন বঙ্গভূমি’র অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ কর।’ এরশাদ সরকারের সেদিনকার সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের বিরুদ্ধে গৃহীত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নমুলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এ দাবি উত্থিত হলেও আজ তা নেই। তবে বলতে দ্বিধা নেই, কথিত স্বাধীন বঙ্গভূমি’র জন্যে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ করে নি। জুজুর ভয় দেখিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল সেদিনকার সরকারের।
সপ্তম দাবি ছিল- ‘সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদিতা ও ধর্মান্ধতা প্রতিরোধ কর। ধর্মের ভিত্তিতে সকল বৈষম্য, নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধ কর’। এ দাবি আজ শুধু ঐক্য পরিষদের দাবি নয়, ইতোমধ্যে তা’ জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বৈষম্য, সা¤প্রদায়িক নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা খানিকটা সংকুচিত হয়ে এলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে তার অবসান ঘটে নি। লক্ষ্যণীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা বাণিজ্য, জায়গা জমিতে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, তাদের ভূমি দখল, নারী নির্যাতন, অপহরণ ধর্ষণ, উপসনালয়ের দেববিগ্রহ ভাংচুর, জোরপূর্বক ও নানান ছলচাতুরি করে ধর্মান্তরকরণ নিত্যদিনকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপকর্ম সংঘটনে সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের সঙ্গী হিসেবে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণীর লুটেরাদের দেখা যায়। জানিনা, সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের যাদেরকে দলে অনুপ্রবেশকারী বা তার ভাষায় ‘কাওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন এরা তারা কি না? যদি তা হয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সাংগঠনিকভাবে কোনরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ আজো দৃশ্যমান নয় কেন? যা ভুক্তভোগী জনগণকে হতাশার দিকে ঠেলে দি”েছ। ধর্মমন্ত্রণালয়ের বাজেটে, ত্রাণ বিতরণে পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য আজো বিদ্যমান।
উল্লেখিত ৭-দফা দাবির মধ্যে যা আজও পূরণ হয়নি বা বাস্তবায়িত হয়নি তা পূরণে ও বাস্তবায়নে ঐক্য পরিষদ তার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঐ বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে ঐক্য পরিষদ ৫-দফা দাবিনামা পেশ করে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রদানের দাবি ছিল। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, কমিউনিষ্ট পার্টি, গণফোরামসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সকল দল ও জোট যার যার মতো করে অঙ্গীকার করে তাদের ইশতেহারে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ণের অঙ্গীকার করেছে। সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে মাঠে রয়েছে।
বছর তিনেক পরেই পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন। এ নিবাচনের পূর্বেই সরকারি দলের তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এ লক্ষে সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও সামাজিক ব্যক্তি ও শক্তিকে সাথে নিয়ে সুসংহত মানবাধিকার আন্দোলনকে বেগবান করতে ঐক্য পরিষদ অঙ্গীকারাবদ্ধ।