ঐক্য পরিষদের বিবৃতি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

30

করোনাভাইরাসের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও বিগত একমাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলা, জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের হুমকি, নারী ধর্ষণ ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
গত ২৭ এপ্রিল সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে দেশের নানান স্থানে সংঘটিত ১৫টি ঘটনার উল্লেখ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকারের কাছে জোরদাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ১৫টি ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
(১) জেলা- সাতক্ষীরা ঃ সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ী সুবল চক্রবর্তীকে কলেমা পড়ে মুসলিম না হলে ভারতে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত তালা উপজেলার নগরঘাটায় কালিপদ চক্রবর্তীর ছেলে মুদি ব্যবসায়ী সুবল চক্রবর্তীকে গত ১৩ এপ্রিল সোমবার প্রকাশ্যে সবার সামনে মারধর ও কলেমা না পড়লে ভারতে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দক্ষিণ নগরঘাটা গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তাক। সে হুমকি দিয়ে বলে, শালা মালাউন হয় কলেমা পড় তা না হলে ভারতে চলে যা। তার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে নগরঘাটার শত শত সংখ্যালঘু পরিবার। ভুক্তভোগী সুবল চক্রবর্তী নগরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু-কে জানালে সে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাটকেলঘাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
(২) জেলা-বাগেরহাট ঃ বাগেরহাটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্ত:সত্তা গৃহবধূ ও শিশুসহ পাঁচ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে গত ২৪ এপ্রিল সকাল বেলায় বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার অন্তর্গত চিলা ইউনিয়নের গোলেরডাঙ্গা গ্রামের অনিল বালার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় পার্শ্ববর্তী বাঁশতলা গ্রামের প্রভাবশালী সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যু আবদুস ছালামের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু। এতে অন্ত:সত্তা গৃহবধূ সুমিতা বালা, অনিল বালা, মায়া বালা, সরলা গোলদার, শিশু পুটু গোলদার ও শংকর গোলদারসহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে। পরে তাদের এলাকাবাসী উদ্ধার করে ¯স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অন্ত:সত্তা গৃহবধূ সুমিতা বালা ও অনিল বালার অবস্থা গুরুতর বলে জানায় কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
(৩) জেলা- জামালপুর ঃ জামালপুর ঢালুয়াবারি গ্রামের বহু পুরানো শিব মন্দির ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়া হয়েছে পুরো দেবোত্তর সম্পত্তি। জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার অন্তর্গত ঢালুয়াবারি গ্রামে গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সারাদেশে লক ডাউনের সুযোগ নিয়ে মৃত সেকান্দর খাঁ-র পুত্র নুরুল ইসলাম খাঁ-র নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত একটি বহু পুরানো শিব মন্দির সাবল দিয়ে ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দখল করে নিয়েছে পুরো দেবোত্তর
সম্পত্তি।
(৪) জেলা- জয়পুরহাট ঃ মন্দিরে জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও মারধর করা হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর পৌর এলাকার পারঘাটী মন্দিরে জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় বেশ কয়েকজন ধর্মীয় সংখ্যালঘুর বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লোকজনদের মারধর করেছে সন্ত্রাসীরা। গত ২০ এপ্রিল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ¯স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী যুবক ওই মন্দিরে জুয়া খেলছিল। এসময় মন্দিরের পাশে থাকা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরে জুয়া খেলা বন্ধ করতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও তাদের মারধর করেছে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেছে। এ ঘটনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
(৫) জেলা-রাজশাহী ঃ রাজশাহীর মোহনপুর থানার অন্তর্গত ঘাসিগ্রামের নিমাই সরকারের কন্যা, নবম শ্রেণির ছাত্রী কুমারী অষ্টমী সরকার ঘাসিগ্রাম স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরিরত আলীর সহায়তায় পাশের গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে গোলাম মোস্তফা ও তার সহযোগীদের উত্যক্তে অতিষ্ট হয়ে গত ১৬ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ইতোপূর্বে গত বছর ১১ নভেম্বর প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় গোলাম মোস্তফা ও তার সহযোগীরা অষ্টমীকে অপহরণ করেছিল। খবর পেয়ে ওইদিনই পুলিশ অষ্টমীকে উদ্ধার ও অপহরণকারী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে আবারও তাকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। শেষমেষ আর সহ্য করতে পারেনি অষ্টমী, বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।
(৬) জেলা- চট্টগ্রাম ঃ চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের শুক্লাদাস পাড়ায় গত ২১ এপ্রিল স্থনীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ এ টি এম, মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্, জিয়া উদ্দিন, হাবিবুল্লাহ্ ও মুসা উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশে লকডাউন উপেক্ষা করে ৩০টি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে এবং তাদেরকে দেশত্যাগের হুমকি দিয়েছে। হামলায় নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ভীতি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
(৭ ) জেলা- কুড়িগ্রাম ঃ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের সাতানী হাইল্লা গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকারের ছেলে অনার্সের ছাত্র পরিতোষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফেসবুকে বাজে মন্তব্য ও ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে তার ওপর হামলা ও পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
(৮) জেলা- চাঁদপুর ঃ গত ১৭ এপ্রিল চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের শীতল সরকার ও তার ভাই হীরাপদ সরকারকে উপর্যুপরি মারধর করে গুরুতর আহত করেছে প্রতিবেশী মুন্সী বাড়ির সন্ত্রাসী ছেলে রাকিব হোসেন। তাদের আর্ত চিৎকারে আশেপাশের বাড়ি থেকে অন্যান্য লোকজন এসে দ্রæত তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী রাকিবের নেতৃত্বে রিপন, বক্কর, হাসান, মকবুল মাহবুব, মাসুমসহ ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
(৯) জেলা- যশোর ঃ যশোর জেলার বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের রবীন সরকারের স্ত্রী রীতা সরকারকে গত ১৬ এপ্রিল রাতে শ্লীলতাহানী করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবু সরদার, পিতা- মৃত আকবর আলী। রীতা সরকার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে রাত ১২টার দিকে ঘরের বাইরে বাথরুমে গেলে পূর্বে থেকে ওঁতপেতে থাকা বাবু সরদার মদ্যপ অবস্থায় তাকে জড়িয়ে ধরে টানাটানি করে। এতে রীতা আহত হয়। বাবু সরদারকে পরে পুলিশ আটক করলে স্থানীয় ক্ষমতাধর নেতারা তার জামিনের ব্যবস্থা করে। বর্তমানে আসামী গ্রামে ফিরে এসে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা যায়।
(১০) জেলা-সাতক্ষীরা ঃ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ৬নং রমজাননগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভেটখালী গ্রামের বরেন্দ্র কৃষ্ণ মন্ডল ও তার স্ত্রী নীলিমা রানী মন্ডলকে গত ২৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সুন্নত আলী গাজী ও তার ক্যাডার বাহিনী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ রাজ গাজী, মোহাম্মদ আজিম গাজী ব্যাপকভাবে মারধর করে বরেন্দ্র কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়ির পুকুর দখল করে নিয়েছে। তারা বাধা দিলে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। বরেন্দ্র কৃষ্ণ মন্ডলকে শ্যামনগর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
(১১) জেলা- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ঃ গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের হিন্দুপল্লীতে হামলা চালিয়ে সুধাংশু দাসের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে ¯’ানীয় সন্ত্রাসী ইছা মিয়া ও তার সহযোগীরা। এতে স্থানীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
(১২ ) জেলা- ফরিদপুর ঃ গত ১২ এপ্রিল ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মল্লিকপুরের পালপাড়ায় সুরেশ পালের বাড়িতে এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সলেমান বেপারীর নেতৃত্বে মোহাম্মদ মিজান বেপারী, মোহাম্মদ রানা বেপারী, মোহাম্মদ হৃদয় বেপারী ও মোহাম্মদ সুজায়েতসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলায় সুরেশ পাল, তার স্ত্রী সবিতা পাল, ছেলে সমীর পাল, তার ভাই জগদীশ পাল, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সুস্মিতা পাল মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এমতাবস্থায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
(১৩) জেলা- কক্সবাজার ঃ কক্সবাজার পৌরসভায় বিডিআর ক্যাম্প অধীন ৬নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ সাত্বিকা পল্লী হিন্দু পাড়ার সাহাগলি রোডে অবস্থিত গোপাল দাশের বাড়িতে সার্বজনীন শিব মন্দিরের জমি ও বসতবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায় প্রতিবেশী প্রফেসার হোসেন ও তার ছোট ভাই লিয়াকতসহ তাদের দলবল। এই সময় তারা মন্দিরের সামনে গিয়ে দখল সীমানা খুঁটি পুঁতে দখল দাবি করে, শুধু তাই নয় সংখ্যালঘু পরিবারটিকে হুমকি প্রদান করে। বর্তমানে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে
(১৪) জেলা- পটুয়াখালী ঃ পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার অন্তর্গত সদর ইউনিয়নের পুরান মহিপুর গ্রামের সংখ্যালঘু নারায়ণ সরকারের ৬০ বছরের ভোগদখলীয় ৩০ শতাংশ জমি গত ৪ এপ্রিল একই গ্রামের ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী রায়হান মীর, ফারুক মৃধা, কালাম চৌকিদার, জাহাঙ্গীর ও খলিলের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছে। বর্তমানে ভূমিদস্যু চক্রটি ওই সংখ্যালঘু পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে।
(১৫) জেলা- ঢাকা ঃ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কঘেঁষা ফতুল্লা ডিআইটি সংলগ্ন নলখালি খালের উত্তর পাশে প্রায় দুই শতাধিক হিন্দু পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে ঋষিপাড়া। করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের কবলে পড়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে ওই পরিবারগুলো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কোন মহলের লোকজনও তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে পরিবারগুলো।
স্থানীয় চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়ীতে ত্রাণের জন্যে গেলেও তারা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন খালি হাতে। খবর সংবাদবিজ্ঞপ্তির।