এসব কিসের আলামত! ডা. জাফরউল্লাহর হিন্দু ধর্ম ও সম্প্রদায়কে নিয়ে কটাক্ষঃ চট্টগ্রামের আদালতে মামলা

21

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি ও প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধকালে বিলেতে উ”চতর চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নরত অব¯’ায় স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উল্লেখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। একপর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্যে ভারতে চলে আসেন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অসুস্থ ও আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শরণার্থীদের সেবায় ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঘাতকের হাতে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যার পুর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁর স্নেহভাজনও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকার জন্যে বঙ্গবন্ধু জনগণের চিকিৎসার জন্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনে সাভারে তাকে একখন্ড জমি দান করেছিলেন, যার উপর দাঁড়িয়ে আজকের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
দেশের যে কোন নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বর্ণিত আছে বাংলাদেশের সংবিধান এর ৩৯(২) নম্বর অনুচ্ছেদে এ নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি সুস্পষ্টভাবে এ-ও বলা আছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক, জনশৃংখলা, স্বাধীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে’ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। ডাঃ জাফরউল্লাহ-র মতো একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির তা অজানা থাকার কথা নয়।
যে কোন বিষয়ে ব্যক্তির মতামত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, চলতেও পারে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যে তা একান্ত-ই প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যব¯’ায় মতভিন্নতা মনভিন্নতার কারণ যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে গণতান্ত্রিক সকল নাগরিকের সচেতনতা দেশবাসী নিশ্চয়ই কামনা করেন। ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরীর মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিদের তা বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
সববিষয়ে জানা সত্বেও কেন যে ডাঃ জাফরউল্লাহ গত ৯ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ভারতের কথিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আহুত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু স¤প্রদায়ের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানিকর বক্তব্য কেন রেখেছেন তা বোধগম্য নয়। এ দেশের অন্ততঃ দু’কোটিরও বেশী হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষ এতে মানসিকভাবে আঘাতগ্রস্ত হয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে প্রকাশ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত ঐ সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ মহাভারত, রামায়ণ দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্পকাহিনী রয়েছে।’ ভারতের কথিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তিনি করতেই পারেন। এটি তার সাংবিধানিক অধিকার। কিš‘ এ প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি অহেতুক হিন্দু ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নামলেন কেন ? পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানি সরকার ও তাদের পেটোয়া বুদ্ধিজীবিরা ভারত ও হিন্দুকে সমার্থক করে একই সাথে সা¤প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়ে দেশ থেকে হিন্দু বিতারণে হামলা চালাতে প্ররোচনা দিতেন ধর্মান্ধ সা¤প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল মহলকে। মনে প্রশ্ন জাগে, মুক্তিযোদ্ধা (?) জাফরউল্লাহও কি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একই পথে হাঁটতে চাইছেন ? হাঁটলেও আপত্তি নেই। কারণ, অতীতে অনেকেই এ পিচ্ছিল পথে হাঁটতে গিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস তারই সাক্ষ্য দেয়। ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী এ পথে হাঁটবেন ভাবতেও ভারী কষ্ট হয়।
দৈনিক ইনকিলাব গত ১০ আগস্ট ‘ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সো”চার না হলে মুক্তি নেইঃ প্রতিবাদ সভায় ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী’-এ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে তাতে ধর্ম অবমাননাকারী বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গত ১৯ আগস্ট এক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে যা সি.আর ১৩২৩/২০২০ (কোতোয়ালী) নম্বরের মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। অভিযোগে বলা আছে, ‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ ও মহাভারত সনাতন ধর্মীয় দর্শনের ভিত্তি। হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান এই দুই ধর্মগ্রš’’ সম্পর্কে জনসম্মুখে ও প্রকাশ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামী ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা মনগড়া, আপত্তিকর, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ও বেআইনী। এরূপ বক্তব্যে হিন্দুধর্মের অগণিত ধর্মপ্রাণ অনুসারীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ‘বৈশ্বিক সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে সনাতন ধর্ম ও ধর্মের ভিত্তি সম্পর্কে কুৎসা ও হিংসাত্মক নিন্দাবাদ প্রচারের মাধ্যমে সনাতন ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে এবং এতে অভিযোগকারীসহ তার স¤প্রদায়ের মানহানি ঘটেছে।
আদালত অভিযোগ দায়েরের দিনে অভিযোগকারীকে ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারার বিধানমতে হলফান্তে পরীক্ষা করে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ফৌজদারী কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধানমতে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দায়েরের জন্য চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্যে চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।