এলএসি-র পথে কাঁদছে চীনা ফৌজ!

6

।। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক।। প্রচার-যুদ্ধে বরাবর গোটা পৃথিবীকে পিছনে ফেলে এসেছে চীন। এ বার তাতেই বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে বেজিঙের অস্বস্তি বেজায় বাড়াল একটি ভিডিয়ো। বাসে করে চীন-ভারত সীমান্তের দিকে আসার সময়ে কাঁদছেন লালফৌজের সদস্যরা এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে ভিডিয়োয়। কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হওয়ার আগেই জোর হইচই পড়ে গিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ভারত সীমান্তে যাওয়ার নামেই ‘আতঙ্কিত’ চীনা সেনারা, প্রমাণ করছে ওই ভিডিয়ো, এমন কথা লেখা হয়েছে তাইওয়ানের একাধিক সংবাদপত্রে। আর সে প্রতিবেদনের ধাক্কা এমনই সজোরে লেগেছে বেজিঙে যে, সরকারি সংবাদমাধ্যমকে মাঠে নামাতে বাধ্য হয়েছে চীন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

যে ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে এই হইচই, সেটি ভুয়ো, এমন কথা কিন্তু চীন বলতে পারেনি। ভিডিয়োটির ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে।

গত রোববার ভিডিয়োটি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আসে। তাতে দেখা যায় যে, একটি বাসে করে একদল চীনা সেনাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশ থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল পশ্চিম চীনের দিকে অর্থাৎ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) দিকে। পিএলএ (চীনা ফৌজ) সদস্যরা সবাই মিলে একটি গান গাইছিলেন এবং প্রায় প্রত্যেকেই বিহ্বল হয়ে কাঁদছিলেন।

আনহুই প্রদেশের একটি গণমাধ্যম গত সপ্তাহে ভিডিয়োটি প্রথম প্রকাশ্যে আনে বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং চীনের নানা ডিজিটাল মাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়াতে থাকে। তার পরের কয়েক দিনে চীনের বাইরে ফেসবুক এবং টুইটারেও তা শেয়ার হতে শুরু করে। চীনের ঘোর শত্রু হিসেবে পরিচিত তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম প্রায় লুফে নেয় ভিডিয়োটি। ভারত-চীন উত্তেজনার প্রেক্ষিতে লাদাখের সীমান্তে মোতায়েন করার জন্য পাঠানো হচ্ছে এই চীনা সেনাদের এবং তারা আতঙ্কে কাঁদছেন, লেখা হয় তাইওয়ানের একাধিক সংবাদপত্রে।

লাদাখে গত কয়েক মাসে ভারতীয় এবং চীনা বাহিনীর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ ঘটে গিয়েছে। গালওয়ানের রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতে বড় সংখ্যায় প্রাণহানি তো ঘটেইছে, প্যাংগং-এর উত্তর তটে যে এলাকায় কোনও পক্ষেরই স্থায়ী সেনাঘাঁটি ছিল না, সেই ফিঙ্গার-৪ এবং হট স্প্রিং এলাকায় ঢুকে শিবির তৈরি করেছে লাল ফৌজ। পাল্টা পদক্ষেপে প্যাংগং-এর দক্ষিণে প্রায় ৭০ কিলোমিটার বিস্তারে হেলমেট টপ, ব্ল্যাক টপ, রেজাং লা, রেচিন লা-র মতো কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অঞ্চল আচমকা কব্জা করে চীনকে বেকায়দায় ফেলেছে ভারত। সঙ্ঘাত কমানোর জন্য দু’পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের বৈঠকও হচ্ছে। আবার তার পাশাপাশি এলএসি বরাবর দু’পক্ষই সৈন্য সমাবেশ এবং সামরিক প্রস্তুতিও বাড়িয়ে চলেছে। আর ভারত-চীন সীমান্তের এই তুমুল উত্তেজনার দিকে সারা ক্ষণ নজর রেখে বসে রয়েছে প্রায় গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

চীনের সঙ্গে আমেরিকার সঙ্ঘাতও অনেক দিন ধরেই বাড়ছে। এ বারের ভারত-চীন সঙ্ঘাতের দিকে তাই আমেরিকাও নজর রাখছে। তারা খোলাখুলি ভারতের পক্ষে কথাও বলছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপান থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে তাইওয়ান-ও নজর রাখছে এই সঙ্ঘাতের দিকে। কারণ দক্ষিণ চীন সাগরে জলসীমার দখল নিয়ে এই সব দেশের সঙ্গে চীনের সঙ্ঘাত অনেক দিনের।