এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দুর্গাপূজা

15

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। এবার বাংলাদেশে দুর্গাপূজায় কোনো উৎসব হবে না।  কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাত্ত্বিক আচারের মাধ্যমে পূজার আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখা হবে। ঢাকায় হবে না কুমারীপূজাও। মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে রাত নয়টার মধ্যে। জনসমাগম পরিহার করতে পূজায় প্রসাদ বা খিচুড়ি বিতরণ করা হবে না। হবে না বিজয়ার শোভাযাত্রা। কোভিড পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য বিশেষ প্রার্থনাও করা হবে। আজ ১৭ অক্টোবর সকালে শনিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্যে ও প্রশ্নোত্তরকালে এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ সভাপতি জে এল ভৌমিক ও পূরবী মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর দেবীপক্ষের সূচনা হলেও এ বছর আশ্বিন মাস ‘মলমাস’ হওয়ায় বরাবরের মতো দেবীপক্ষে দুর্গাপূজা শুরু হয়নি। এর ১ মাস ৫ দিন পর হেমন্ত ঋতুর কার্তিকে অর্থাৎ আগামি ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে।

সভায় জানানো হয়, কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার পূজায় উৎসবের আয়োজন থাকবে না। এ জন্য মন্দিরে আলোকসজ্জা, বিশেষ সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা হবে। ভক্তিমূলক গান ছাড়া অন্য কোনো রকম গান বাজানো যাবে না। কোনো আতশবাজি বা পটকার ব্যবহার করা যাবে না। তা ছাড়া এবার জনসমাগম পরিহার করতে প্রসাদ বা খিচুড়ি বিতরণও করা হবে না। আরও বলা হয়, সন্ধ্যার মধ্যেই আরতি সম্পন্ন করে দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। রাত নয়টার পর মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর কোনো দর্শনার্থীদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি ভক্তরা যেন তাদের বাড়ি থেকে অঞ্জলি দিতে পারেন, সে জন্য সম্ভব হলে মন্দিরগুলোর তরফ থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থা করা হবে।

নেতৃবৃন্দ জানান, মন্দিরে বা পুজো প্যান্ডেলে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক ব্যবহার করে ভক্তরা অঞ্জলি দিতে পারবেন। বিজয়া দশমী হবে ২৬ অক্টোবর, তবে এবার বিজয়ার শোভাযাত্রা হবে না। নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করবে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এবার সারা দেশে মোট ৩০ হাজার ২৩১টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯১টি। এবার ১ হাজার ১৮৫টি পূজা কম হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতির কারণে পূজার সংখ্যা কমেছে বলে তারা মনে করেন। আরও বলা হয়, পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে গত ২৬ আগস্ট ২৬ দফা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পূর্বোক্ত ২৬ দফা বলবৎ রেখে ৮ অক্টোবর অতিরিক্ত ৭ দফা দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ থেকেই মূলত এবার ঢাকায় কুমারীপূজা হবে না। সপ্তমী তিথিতে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে সব মন্দিরে কোভিড পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং সবার আরোগ্য কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মহামারি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

মতবিনিময়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবর মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। ইেিতামধ্যে করোনার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেভাবে সীমিত পরিসরে বাসন্তী পূজা, অষ্টমী ¯œান, রথযাত্রা ও জন্মাষ্টমী পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় বিধিবিধান সমুন্নত রেখে সেভাবেই দুর্গাপূজার আায়োজন করবে।

লিখিত বক্তব্যে পরিষদের  ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্গাপূজায় তিনদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, অন্যান্য জাতীয় উৎসবের ন্যায দুর্গাপূজাও জাতীয় মর্যাদায় পালনে পদক্ষেপ নেওয়া, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও অর্পিত সম্পত্তি ফেরত প্রদানে জটিলতা নিরসন করা, প্রতিটি  উপজেলায়  একটি করে মডেল মন্দির প্রতিষ্ঠা অন্যতম।