উখিয়া-টেকনাফে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে সাতজনের মৃত্যু

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন আরও একজন। পৃথক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধসে মৃত পাঁচজন হলেন দিল বাহার (২৬), আবদুর রহমান (২), আয়েশা সিদ্দিকা (১), দিল বাহার (৪২) ও শফিউল আলম (৯)। আহতরা হলেন নুর ফাতেমা (১৪) ও জানে আলম (৮)।

পাহাড়ধসের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা নয়ন। তিনি বলেন, সোমবার বিকাল থেকে টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরের শতাধিক ঘর ডুবে গেছে। পাহাড়ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিবির ডুবে গেছে। তবে সেখানে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বর্ষণে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, পোকখালী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, ঈদগাঁও, ইসলাম, পেকুয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি চলাচলের খাল বেদখল ও বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব গ্রামে ঢুকছে জোয়ারের পানি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, লঘুচাপের কারণে সাগরে জোয়ারের পানি ৩-৪ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস ঘটেছে। এখন পর্যন্ত শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যু : টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মনিরঘোনায় পাহাড়ধসে রকিম আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলী আহমদের ছেলে।

জানা যায়, টেকনাফসহ বিভিন্ন অঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে রকিম আলীসহ তার পরিবারের লোকজন অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় গতকাল সকালে হঠাৎ ওপর থেকে পাহাড় ভেঙে তার বাড়ির ওপর পড়লে রকিম আলী গুরুতর আহত হন। তাকে উখিয়া বালুখালী তুর্কি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এরফানুল হক চৌধুরী, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ও পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই মাহামুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ পারভেজ চৌধুরী জানান, অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ধসে রকিম আলী নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে মৃতের পরিবারকে সহায়তাসহ পাহাড়ে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কাজ করা হচ্ছে।