ইরানের ‘বোমার জনক’ ফাখরিজাদেহকে হত্যা, আঙ্গুল ইসরাইলের দিকে

3

ইরানের অন্যতম শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে প্রথমে বোমা হামলা চালানো হয়, এরপর গুলি করা হয়। ফাখরিজাদেহ দামাভান্দ এলাকার অ্যাবসার্দের একটি হাসপাতালে মারা যান। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হোসেইন দেহাগান বজ্রপাতের মতো অপরাধীদের আঘাত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোহসেন ফাখরিজাদেহকে ইরানের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এ ছাড়া কূটনীতিকেরা প্রায়ই তাকে ‘ইরানের বোমার জনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এই কাজের নিন্দা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় জারিফ বলেন, সন্ত্রাসীরা আজ বিশিষ্ট ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দোষারোপ করেছেন। ইরানের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত মজিদ তখত রাভঞ্চি বলেছেন, এই হত্যাকান্ড আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা এই অঞ্চলে বিপর্যয় ডেকে আনার জন্য তৈরি। ইসরাইল অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ক এক উপস্থাপনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশেষভাবে ফাখরিজাদেহর নাম উল্লেখ করেছিলেন।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, আধুনিক বিজ্ঞানে আমাদের প্রবেশ রোধ করতে বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই হত্যার খবর এসেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামরিক পরমাণু অস্ত্র উভয়ের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিশালী ছয়টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। ইসরাইলের বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন আবার ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আসার কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা গত জানুয়ারি থেকে বেড়েছে। ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সামরিক বাহিনীতে আনুমানিক ৫ লাখ ২৩ হাজার সদস্য আছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এমন তথ্য জানিয়ে বলেছে, এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ নিয়মিত বাহিনীর এবং কমপক্ষে দেড় লাখ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্য।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীর হয়ে আরও ২০ হাজার সদস্য কাজ করে। এই সদস্যরা হরমুজ প্রণালিসহ আশপাশের জলভাগকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয় ইরানের ইসলামিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে। ধীরে ধীরে এটি দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র শক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী; বিশেষত স্বল্পপাল্লা ও মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে।