আমার জীবনের প্রথম আন্দোলন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : নরেন্দ্র মোদি

11

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। মুজিব কোট পরিহিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সেই একাত্তরের ৭ মার্চে ঢাকায় জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ জোরালো কন্ঠে উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের জনগণের মতো ভারতের জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে আকুলতা ছিল। আমাদের যারা শত্রু তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থনে আমি ও আমার বন্ধুরা সত্যাগ্রহ করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেকেই আমার সঙ্গে এখানে আছেন। আমার জীবনের প্রথম আন্দোলন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। তখন আমার বয়স ছিল ২০-২২ বছর।’

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে দশদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুক্রবার (২৬ মার্চ) শেষ দিনে সম্মানিত অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে বঙ্গবন্ধুকে প্রদত্ত গান্ধী শান্তি পুরস্কার বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার হাতে তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিতে পারা ভারতের জন্য গর্বের ব্যাপার। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে উপস্থিত থাকা এবং এমন একটি পুরস্কার তুলে দিতে পারা আমার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মজবুত করতে তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এ সময় মোদি ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারকে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে গোবিন্দ হালদারের লেখা গান ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলব না’ মোদির মুখে বাংলায় শুনে সবাই হাততালি দেন।

বিকেলে নরেন্দ্র মোদি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছার পর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।‘মুজিব চিরন্তন’ শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যের ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আজকের প্রতিপাদ্য ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’।

নরেন্দ্র মোদি আজ সকালে দুদিনের সফরে ঢাকা এসে পৌঁছান, বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উপকন্ঠ নবীনগরে জাতীয় স্মৃতি সৌধে যান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে ‘অর্জুন’ গাছের একটি চারা রোপন করেন। স্মৃতি সৌধ থেকে আসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে, যেটা এখন জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এই বাড়ি থেকেই একাত্তরে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে। রাত দেড়টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই বাড়িতেই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একসঙ্গে এগুলে আমরা সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ তাঁর ভাষণে একাত্তরে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে শরণার্থী শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাজ করার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত সেদিন বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি মানুষকে শুধু আশ্রয়ই দেয়নি, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে রক্ত দিয়েছে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য অন্তত ৩০টি দেশ সফর করেন। সুখে-দুঃখে ভারত আমাদের পাশে আছে। আমরা কখনো ভুলবো না।