আবদুল মতিন খসরু ও শামসুজ্জামান খান আর নেই

6

ডেস্ক রিপোর্ট।। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এ কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান আর নেই।  তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বুধবার দুপুর ২ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে মারা যান। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী।

সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু গত ১৬ মার্চ থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। মতিন খসরু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি। কুমিল্লা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৫০ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, অসুস্থ হয়ে দু’সপ্তাহ ধরে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ২ টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান একাধারে ছিলেন লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা শিরোনামে ৬৪ খন্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহশালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খন্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা সম্পাদনা। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এবং ১৯৬৪ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। একই বছর তিনি জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে ২৪ মে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন। তার পদের মেয়াদ তিনবার বাড়ানো হয়, শেষ হয় ২০১৮ সালে। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান একুশে পদক ছাড়াও বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার,শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় গবেষণা পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার পান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক শোকবার্তায় আবদুল মতিন খসরু ও অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।