আগামি কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং মৃত্যু নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আগামি কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বৃহস্পতিবার একদিনে ১৪৩ জনের এবং শুক্রবার ১৩২ জনের মৃত্যুর খবর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবনায় দুশ্চিন্তার ছাপ তৈরি করেছে। কিন্তু সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বাংলাদেশে এখনও আসেনি বলেই তারা ধারণা করছেন। খবর বিবিসি’র।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য আবু জামিল ফয়সাল  বলেন, এখন সংক্রমণ এবং মৃত্যর যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে তিন সপ্তাহ আগের অবস্থার বর্তমান পরিণতি।

চলমান লকডাউন শুরু হওয়ার আগে সপ্তাহখানেক ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষ যেভাবে গাদাগাদি করে শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে গেছে, তার প্রভাব কী হতে পারে সেটি দেখার জন্য আরও তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আবু জামিল ফয়সাল আরও বলেন, আমরা খুব সৌভাগ্যবান হবো যদি দেখি যে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

সংক্রামক রোগ বিষয়ক সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীরও বলছেন একই কথা। অতীতে প্রবণতা এবং বর্তমান পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে আলমগীর ধারণা করছেন যে চলতি সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে না এখনও পিক (সর্বোচ্চ চূড়া) এসেছে। পরিস্থিতি দিন-দিন খারাপ হচ্ছে।

গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের একদল গবেষক বলেছিলেন যে জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিক বা সর্বোচ্চ চূড়া আসতে পারে। বাংলাদেশ কমো মডেলিং গ্রুপ-এর আওতায় এই গবেষণা করেছেন একদল গবেষক, যারা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে তা করেন। কমো মডেলিং গ্রুপে পিক বা সর্বোচ্চ চূড়া বলতে দিনে অন্তত ১০/১২ হাজার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়াকে বোঝানো হয়।

আইইডিসিআর বলছে, বাংলাদেশে ৩০টি’র বেশি জেলায় শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি। আর ২০টির বেশি জেলায় সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি।

এ এস এম আলমগীর বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে সংক্রমণের হার আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং এই প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। যেসব জায়গায় সংক্রমণ এরই মধ্যে অনেক বেশি হয়েছে, সেখানে হয়তো তা কমতে শুরু করবে। আবার নতুন নতুন জায়গায় সংক্রমণের হার বাড়তে থাকবে।

সংক্রমণ কতটা কমবে সেটি নির্ভর করবে লকডাউনের সফলতার উপরে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে ২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত চারদিনে কোভিড রোগী শনাক্তের মোট সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি। গত চারদিন যাবত দেখা যাচ্ছে, নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় কোভিড রোগী শনাক্তের হার প্রায় ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আক্রান্ত। তবে উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর কোথায়ও কোথায়ও শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, গ্রামের দিকে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গেছে এবং ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।