অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

6

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। আজ রোববার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ছেলে সুমন মাহবুব বলেন, সন্ধ্যা সাতটা ২৫ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁর বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাহবুবে আলম স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দুই সভাপতি ঊষাতন তালুকদার ও হিউবার্ট গোমেজ এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত এক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর ও গলাব্যথা নিয়ে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ওইদিনই করোনা পরীক্ষায় তার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। শনিবার তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। ওইদিন তার ফুসফুস ঠিকভাবে কাজ করছিলো না। এরপর রবিবার আইসিইউতে থাকাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি হয়। পরে রাতে তিনি মারা যান।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি দেশের ১৫তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা। তারা হাসপাতালে অবস্থান করা পরিবারের সদস্যদের সান্ত¦না দেন।

সুমন মাহবুব সাংবাদিকতা ও কন্যা শিশির কনা ও তার জামাতা শেখ রিয়াজুল হকও আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। মাহবুবে আলমের স্ত্রী বিনিত মাহবুব একজন ভালো চিত্রকর।

অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হন এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।