অমর একুশের বইমেলা উদ্বোধন

2

সংবাদদাতা।। অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলবে দেশের বৃহত্তম এই বইমেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পড়ো বই, গড়ো দেশ: বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

মেলা উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগৃহীত রচনা: দ্বিতীয় খন্ড’ এবং ‘প্রাণের মেলায় শেখ হাসিনা’ (বাংলা একাডেমিতে শেখ হাসিনার গত ২০ বারের ভাষণের সংকলন) শীর্ষক দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন।

এবারের বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর মোট ৩৭টি প্যাভিলিয়নও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৬০১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মেলার মূল মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে। রমনা কালী মন্দিরের পাশে সাধুসঙ্গ এলাকায় রয়েছে ‘শিশু চত্বর’।  প্রতি কর্মদিবসে বইমেলা বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের ভাষা আন্দোলনের মাস উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির সত্তা জাগ্রত হয়। এই পথ বেয়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আমরা বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলি, মায়ের ভাষায় কথা বলি। এই অধিকারটাও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি আমাদের অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশকদের শুধু কাগজের নয়, ডিজিটাল প্রকাশক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ডিজিটাল প্রকাশনার দিকেও নজর দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’। কী মধুর আমাদের ভাষা। আমি একটা কথা বলব যে, এখন আমাদের যুগটা হয়ে গেছে বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগ। বই প্রকাশ এটা  অবশ্যই থাকবে, এটা যাবে না। কারণ, একটা বই হাতে নিয়ে পড়ার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে। আজকালকার ছেলেমেয়েরা আবার ট্যাবে করে বই পড়ে অথবা ল্যাপটপে পড়ে। যদিও আমরা ওইভাবে খুব একটা আনন্দ পাই না।

‘কিন্তু তারপরও আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সবকিছু নিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা উচিত। আমি আমাদের প্রকাশকদের অনুরোধ করব, প্রকাশকরা শুধুমাত্র কাগজের প্রকাশক হলে হবে না, ডিজিটাল প্রকাশকও হতে হবে। ডিজিটাল হলে শুধু আমাদের দেশে নয়, বিদেশেও সকলের কাছে এটা পৌঁছাতে পারব। অন্যান্য ভাষাভাষী লোকেরাও পড়বে। কাজেই সেদিকেও একটু নজর দিলে মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে আধুনিক প্রযুক্তিটাও নিজেরা রপ্ত করতে পারব। ’

বাংলা একাডেমি পুরস্কার

বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছর ১১টি বিভাগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ দেওয়া হয়। বিভাগগুলো হলো- কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ/গবেষণা, অনুবাদ, নাটক, শিশুসাহিত্য বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র, জীবনী এবং লোক কাহিনী।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, শামীম আজাদ (কবিতা), নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ও সালমা বাণী (যৌথভাবে কথাসাহিত্যে), জুলফিকার মতিন (প্রবন্ধ/গবেষণা), সালেহা চৌধুরী (অনুবাদ), নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা ও মাসুদ পথিক (যৌথভাবে নাটক), তপঙ্কর চক্রবর্তী (শিশু সাহিত্য), আফরোজা পারভিন এবং আসাদুজ্জামান আসাদ (মুক্তিযুদ্ধের ওপর গবেষণা), সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এবং মো. মজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণা), পক্ষীবিদ ইনাম আল হক (পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র), ইসহাক খান (জীবনী) এবং তপন বাগচী ও সুমন কুমার দাস (যৌথভাবে লোক কাহিনী)।