অভিমত আইন কমিশনের প্রতিবেদন : আমার অভিমত

15

মনীন্দ্র কুমার নাথ

হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ক আইন কমিশনের চুড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম শাহ আলম এতে স্মাক্ষর করেছেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাস্তবতায় এই প্রতিবেদন যথার্থ  অর্থে আলোচনা- পর্যালোচনার  দাবি রাখে। এই প্রেক্ষিতে আমার অভিমত আমি যা ভেবেছি তাই আমি প্রকাশের চেষ্টা করেছি। আমার ভাবনা যদি যথার্থ অর্থে বিবেচিত হয়, খুশী হব।

প্রচলিত হিন্দু আইনের পাশাপাশি নতুন পারিবারিক কিছু আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে যে প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, তাকে সামনে রেখে আমি আমার ব্যক্তিগত ভাবনা সবিনয়ে সবাইকে ভাববার অনুরোধ জানিয়ে বিনীতভাবে তা উত্থাপন করছি:

১) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন বর্তমানে ঐচ্ছিক আছে, তা বাধ্যতামূলক করা হউক;

২) এক স্ত্রী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার অমতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হউক;

৩) ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার বিষয়ক আইনে বর্র্ণিত স্বামীর ত্যজ্যবিত্তে স্ত্রীর ভোগ দখলের স্থলে তার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে আইন প্রণয়ন করা হউক। তবে এই আইন প্রণীত হলে তাতে সুস্পষ্ট ভাবে লিপি থাকতে হবে  ‘বিধবা-স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হলে বা স্বধর্মচ্যুত হলে সাথে সাথে পূর্বতন স্বামীর অংশীদারিত্ব থেকে বিচ্যুত হবে এবং সেই সম্পত্তি মৃত স্বামীর অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের নিকট প্রত্যর্পিত হবে;

৪) পিতার মৃত্যুতে তার ত্যাজ্যবিত্তে পুত্র সন্তানের মত কন্যা সন্তানেরও অধিকার নিশ্চিত করে আইন প্রণয়ন করা হউক।এই আইন প্রণীত হলে শর্ত থাকতে হবে এই যে, ছেলে বা মেয়ে যেই হউক স্বধর্মচ্যুত হওয়ারর সাথে সাথে তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকারীত্ব হারাবে এবং তা পিতার সম্পত্তির অন্যান্য ওয়ারিশগণের কাছে আপনা আপনি প্রত্যর্পিত হবে।

এখানে উল্লেখ্য, এদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে জটিলতার আশংকায় পরিবারের সম্পত্তিতে কন্যা ও পুত্র সন্তানের সম-অধিকারের বিষয়টিতে রাজী হতে পারছেন না অনেকেই। আসুন সবাই এক হয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করি এবং নারীদের অধিকার নিশ্চিত করি।

লেখক : সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড।