অবিলম্বে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি

15

প্রেসবিজ্ঞপ্তি।। স্বাধীনতার মাসে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসী হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী মহাতান্ডবের কঠোর নিন্দা এবং ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। ৩১ মার্চ বুধবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়-

‘পূর্বাহ্নে ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সন্ত্রাসী হেফাজতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব উদযাপন বানচাল করার জন্য সারাদেশে একের পর ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশেষভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারা যে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে সুরস¤্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে গত শতাব্দীর কিংবদন্তীতুল্য সঙ্গীতগুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শনসমূহ ধ্বংস করেছে এবং যে পৈশাচিকতায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙেছে তা আমাদের ’৭১-এর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং পরবর্তীকালে আল কায়দা ও আইএস-এর নৃশংস বর্বরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরও একইভাবে হামলা এবং উপাসনালয় ধ্বংস করেছে।’

‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- অধিকাংশ ক্ষেত্রে হেফাজতের তান্ডবে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার কথা গণমাধ্যমে বলা হলেও স্থানীয় প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে- যা হেফাজতীদের অধিকতর নৃশংসতায় প্ররোচিত করেছে। দেশের সকল শীর্ষ দৈনিক ও টেলিভিশনের প্রতিবেদনে হেফাজতের নেতাদের হুঙ্কার এবং তান্ডবের সচিত্র বিবরণ প্রকাশ করা হলেও ৩১ মার্চ ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদন থেকে আমরা জেনেছি গত ৫ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ২৫টি মামলায় ১৫,০০০ ব্যক্তিকে আসামী করা হলেও মাত্র ৩৮ জন হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাকিদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয় নি, এমনকি হেফাজতের দুর্গ হাটহাজারীর সন্ত্রাসের ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয় নি।’

‘আমরা বহুবার বলেছি, ’৭১-এ যারা ধর্মের নামে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদেরই রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরাধিকারী হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম- যারা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের তালেবানি আফগানিস্তান বানাতে চায়। ২০১৩ সালে ঢাকার মহাতান্ডবের ঘটনায় আমরা দেখেছি জামায়াত-বিএনপির জোট কীভাবে এই মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে মদদ দিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে থানা ও পুলিশের উপর আক্রমণকালে যখন হেফাজতের কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে তখন তথাকথিত সুশীল সমাজ ও বামপন্থীদের কয়েকজন সন্ত্রাসীদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের জন্য মায়াকান্নায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।’

‘আমরা অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদ সন্ত্রাসী হেফাজতে ইসলামের সকল সভা সমাবেশ বন্ধ এবং হেফাজত-জামায়াতের মতো স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। হেফাজত-জামায়াত গং-এর প্রতি যে কোনও নমনীয়তা শুধু সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে না- দেশ ও জাতির জন্য সমূহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

বিবৃতিতে সই করেছেন -বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, কথাশিল্পী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরউত্তম, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরণ নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, ড. ফরিদা মজিদ, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মী চন্দন শীল, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, অধ্যাপক সুজিত সরকার, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সমাজকর্মী পূর্ণিমা রাণী শীল, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, সমাজকর্মী শরিফুল হাসান সুমন প্রমুখ।